৭ বছরে দ্বিগুণের বেশি আয় বেড়েছে আমির খসরুর, স্ত্রীর চারগুণ
গত সাত বছরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বার্ষিক আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তবে আয়ের প্রবৃদ্ধিতে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন তার স্ত্রী তাহেরা আলম; এই সময়ে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে চারগুণেরও বেশি।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বর্তমান বার্ষিক আয় ১ কোটি ৫৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৪ টাকা। ২০১৮ সালে তার এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ গত সাত বছরে তার আয় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী তাহেরা আলমের বার্ষিক আয় ২০১৮ সালে ছিল ৯ লাখ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ৮২৭ টাকায়। আয় বাড়ার পাশাপাশি তাহেরা আলমের নগদ অর্থ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
হলফনামার তথ্যমতে, পেশায় ব্যবসায়ী আমির খসরুর আয়ের বড় অংশ আসে শেয়ার, বিল্ডার্স কোম্পানির সাইনিং মানি ও ঘরভাড়া থেকে। আয়ের খাতগুলোর মধ্যে কৃষিখাত থেকে ৪৫ হাজার টাকা; বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা; শেয়ার, বন্ড ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩৬ লাখ ২৯ হাজার ৮২৪ টাকা এবং আলফা সিকিউরিটিজের শেয়ার থেকে ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আয় দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া একটি বিল্ডার্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির সাইনিং মানি হিসেবে তিনি ৮০ লাখ টাকা পেয়েছেন।
বর্তমানে আমির খসরুর কাছে নগদ টাকা রয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫০ টাকা এবং তার স্ত্রীর কাছে আছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ২৮৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমির খসরুর জমা আছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ১০৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে জমা আছে ৩৪ লাখ ৫১ হাজার ৫৯১ টাকা।
শেয়ার ও বন্ড খাতে আমির খসরুর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৬ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার। সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে আমির খসরুর রয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৬ টাকা এবং তাহেরা আলমের নামে রয়েছে ৪৬ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৮ টাকা।
আমির খসরুর নামে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি থাকলেও তার স্ত্রীর নামে থাকা জিপটির বাজারমূল্য দেখানো হয়েছে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বর্ণালংকার রয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আমির খসরুর নামে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ২৩ লাখ ৯ হাজার ৪ টাকা এবং চারটি আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবনের মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১ টাকা। তার স্ত্রীর নামে থাকা দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৪ টাকা।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে একসময় মোট ৩৫টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৩৪টি মামলা থেকেই তিনি অব্যাহতি, খালাস অথবা প্রত্যাহার পেয়েছেন। বর্তমানে ঢাকার বিশেষ দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমির খসরুসহ মোট আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন– স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নূর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া এ কে এম আবু তাহের।
আরএমএন/বিআরইউ