সরকার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আদলে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুটি খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করেছে- ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ ও ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’।

খসড়া অধ্যাদেশে পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত, ভূমি ব্যবহার ও নির্মাণ আইনের ব্যত্যয় রোধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভৌ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন এবং নাগরিক জীবনের মান বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের মতামত সংগ্রহ করছে।

নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন ও কাঠামো

অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার পর সরকার নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় পৃথক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে। কর্তৃপক্ষগুলো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হবে এবং প্রধান কার্যালয় যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় স্থাপন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের অনুমোদনক্রমে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যের মেয়াদ তিন বছর। একজন একই পদে দুই মেয়াদের বেশি নিয়োগ পেতে পারবে না

প্রতিটি কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন- গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে মনোনীত একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে মনোনীত ন্যূনতম উপসচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক মনোনীত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে মনোনীত নির্বাহী স্থপতি পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ ও যোগ্যতা

নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যের মেয়াদ তিন বছর। একজন একই পদে দুই মেয়াদের বেশি নিয়োগ পেতে পারবে না।

চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতারবিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক না হলে, শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া বা অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হলে, কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত হয়ে দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে, কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হলে অথবা কর্তৃপক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলে তিনি এ পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।

সরকার যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে যে কোনো সময় চেয়ারম্যান বা সদস্য অপসারণ করতে পারবে। চেয়ারম্যান অনুপস্থিত বা দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হলে, সরকার মনোনীত কোনো সার্বক্ষণিক সদস্য তার দায়িত্ব সাময়িকভাবে পালন করবেন।

কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ

অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আধুনিক ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্য অর্জনে কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকায় টেকসই নগর উন্নয়ন নীতি ও কৌশল প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য ভূমি জরিপ, সমীক্ষা ও গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বও কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ভূমির ওপর যেকোনো ধরনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল, আধুনিক ও আকর্ষণীয় নগর ও পর্যটন অঞ্চল গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ ও রেলপথ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা অপসারণের ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।

অননুমোদিত বা নকশার বাইরে নির্মাণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই প্রযোজ্য হতে পারে। কর্তৃপক্ষকে অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বসবাসকারীদের উচ্ছেদও করা যেতে পারে

অপরিকল্পিত, অপ্রশস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা অপসারণ করে নতুন আবাসন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। নিম্নবিত্ত, বস্তিবাসী ও গৃহহীনদের আবাসন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করাও কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন থাকা কোনো এলাকায় অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত ভূমি ব্যবহার বা স্থাপনা পরিবর্তনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনী তৈরি ও সংরক্ষণের দায়িত্বও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সরকারের অনুমোদনক্রমে কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে দেশি-বিদেশি বা স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা গ্রহণ করতে পারবে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থার সঙ্গে, এমনকি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেও যৌথ বিনিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান করা যাবে। সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে তফসিলি ব্যাংক, অনুমোদিত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিদেশি সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে। আধুনিক নগর পরিকল্পনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ ও গবেষণা আয়োজনের কথাও দায়িত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন

অধ্যাদেশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তার আওতাভুক্ত এলাকার জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এই মহাপরিকল্পনায় নৌ, বিমান, রেল, সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচলের গতি-প্রকৃতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একইসঙ্গে পানি সরবরাহ ও সংরক্ষণ, পয়ঃপ্রণালি, পয়ঃনিষ্কাশন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও পরিকল্পনায় স্থান পাবে।

মহাপরিকল্পনায় বিভিন্ন সরকারি অফিস, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেবা কেন্দ্র, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, উদ্যান, উন্মুক্ত স্থান, জলাশয়, বিনোদন ব্যবস্থা, পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র, খেলার মাঠ ও হাসপাতালের জন্য ভূমি সংরক্ষণ এবং সেগুলোর অবস্থান নির্ধারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকার অবস্থান নির্ধারণ, সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনাও এতে উল্লেখ থাকবে।

ভবিষ্যতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হতে পারে- এমন ভূমি চিহ্নিত করা ও অবস্থান নির্ধারণ, ভূমি ব্যবহার ও জোনিং ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক ল্যান্ডস্কেপ অনুসরণ করে ভূমি সংরক্ষণের বিষয়গুলোও পরিকল্পনার অংশ হবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন নগরায়ন পরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প, ধারাবাহিক উন্নয়ন ও নিয়মিত সংস্কারের দিকনির্দেশনা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে মহাপরিকল্পনা সরকারি গেজেট, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট এবং কমপক্ষে দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রাক-প্রকাশ করা হবে। প্রাক-প্রকাশের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তি লিখিতভাবে আপত্তি বা পরামর্শ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে পারবেন।

প্রাপ্ত আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করে প্রাক-প্রকাশের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১০৫ দিনের মধ্যে সংশোধনসহ বা সংশোধন ব্যতিরেকে মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সরকার মহাপরিকল্পনা প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করবে এবং সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে।

বিধি-নিষেধ ও দণ্ড

অধ্যাদেশ দুটিতেই মহাপরিকল্পনার পরিপন্থি কোনো ভূমি ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহাপরিকল্পনায় নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূমি ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ইমারত নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ, পুকুর বা কৃত্রিম জলাধার খনন, কিংবা উঁচু ভূমি কাটা যাবে না। অনুমতি লঙ্ঘন করলে দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অনুমতির শর্ত ভঙ্গ হলে কর্তৃপক্ষ সেই অনুমতি বাতিল করতে পারবে। তবে বিদ্যমান স্থাপনার সাধারণ মেরামতের ক্ষেত্রে এই বিধি প্রযোজ্য হবে না।

কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে খননাধীন কৃত্রিম জলাধারের কাজ স্থগিত বা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধে দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধার, নদ-নদী, খাল-বিলের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথমবার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা, এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সংরক্ষণ আইন প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ থেকে স্থাপিত সীমানা প্রাচীর, নিরাপত্তা বেষ্টনী বা চিহ্ন অপসারণ করা যাবে না; এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হবে।

অননুমোদিত বা অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণে কঠোর ব্যবস্থা

অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ে কোনো ভবন নির্মাণ করা হলে কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধ বা স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিতে পারবে। যদি নির্দেশ অমান্য করা হয়, কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে অপসারণ করতে পারবে এবং ব্যয়ের দ্বিগুণ অর্থ আদায় করবে, যা সরকারি দাবি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

অননুমোদিত বা নকশার বাইরে নির্মাণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, ২০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয়ই প্রযোজ্য হতে পারে। কর্তৃপক্ষকে অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বসবাসকারীদের উচ্ছেদও করা যেতে পারে।

যদি কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধে সহায়তা করে, তার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।

এসএইচআর/এমএসএ