গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা থাকলে এনইআইআর বাস্তবায়নে আপত্তি নেই ব্যবসায়ীদের
গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) পদ্ধতি বাস্তবায়নে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) ব্যানারে দুই মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে যাওয়া মোবাইল ব্যবসায়ীরা।
তাদের দাবি, এনইআইআর পদ্ধতিতে গ্রাহকদের তথ্য পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাবে। এছাড়া, একই ব্যক্তির নামে একাধিক ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর নিবন্ধিত হয়ে যাবে, যা ওই ব্যক্তি জানতেও পারবে না। এরইমধ্যে অনেকের নামে একাধিক আইএমইআই নম্বর নিবন্ধিত হয়ে গেছে বলেও তারা দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে ‘এনইআইআর চালুর কারিগর আওয়ামী দোসরদের মুখোশ উন্মোচন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে এমবিসিবির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম এবং সিনিয়র সহসভাপতি শামীম মোল্লাসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতির কথা থাকলেও তারা হুমকিতে রয়েছেন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জনানো হয়।
উপস্থিত নেতারা বলেন, আজকে আমাদের সংগঠনের সভাপতিসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের এখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু তারা নিরাপত্তার স্বার্থে এখানে উপস্থিত হতে পারেননি। আমাদের নেতাদের বিনা কারণে ধরে নিয়ে হয়রানি করছে প্রশাসন। আজকে এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়েও একটি শপিং মলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান এমবিসিবির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান সোহেল ও সংগঠনের প্রতিনিধি সদস্য ফয়সাল আজাদ।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হলে এনইআইআর পদ্ধতিকে তারা সাধুবাদ জানায়। তবে, এই পদ্ধতি যারা টাকার বিনিময়ে চালু করাতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য কি, সেটি খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান তারা।
একইসঙ্গে গ্রাহকরা এরইমধ্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের কাছে হাজার হাজার অভিযোগ আসছে। অনেকের ফোনেই নেটওয়ার্ক চলে গেছে। এটি তো হওয়ার কথা ছিলো না। আমাদের তো বলা হয়েছিল পুরোনো ফোনে কোনো সমস্যা হবে না। আর আমাদের কাছে থাকা ফোনগুলো ৩ মাসের মধ্যে বিক্রি করতে সময় দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে যদি সমস্যা তৈরি হয়, পরবর্তীতে এই সমস্যার সমাধান কী হবে? সরকারকে একটি প্রক্রিয়া চালু করার আগে নিশ্চয়ই আরো গবেষণা করা উচিত ছিলো। আমরা সরকারকে আরো গবেষণা করে এনইআইআর পদ্ধতি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে স্মার্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। লিখিত বক্তব্যে আনিসুজ্জামান সোহেল বলেন, জহিরুল ইসলাম তথাকথিত ৯ কোম্পানির মোবাইল সিন্ডিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এনইআইআর ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে পুরো মোবাইল শিল্পকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার নেপথ্যে পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন এবং রামপুরা থানায় তার নামে যৌথ আসামির তালিকায় একটি মামলাও রয়েছে। দায়ের করা মামলার নং ২০ (দাখিল ১৫ জুন ২০২৫)।
আনিসুজ্জামান আরো বলেন, জহিরুল ইসলামের নামে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অর্থপাচার ও দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। যার তদন্ত স্মারক নং ০০.০১.২৬০০.৭০১.০০৫.২৫। তিনি মোবাইল শিল্পের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচার করেছেন। এখন সিন্ডিকেট কাঠামোর মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। গণ-অভ্যুত্থানের পরে তিনি বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ও দলীয়ভাবে প্রত্যাখ্যানও হয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন হলো- এমন একজন ফ্যাসিস্টের সহযোগী কীভাবে অর্থের বিনিময়ে এনইআইআর পদ্ধতি আনতে পারলো?
এমএমএইচ/জেডএস