বাদশা আলীর ওজন ১ হাজার ৪০০ কেজি/ ছবি : ঢাকা পোস্ট

ঈদুল আজহার দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে চট্টগ্রামের পশুর হাটের বেচাকেনা। ছোট-বড়, মাঝারিসহ নানা আকার ও রঙের গরু উঠেছে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সাগরিকা পশুর হাটে। তবে দাম নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতার। বিক্রেতাদের দাবি, এবার বাজারে গরুর দাম কম। তবে ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় দাম অনেক বেশি।

সাগরিকা হাটে নজর কেড়েছে চট্টগ্রামের বায়েজিদের শান্তিনগর এলাকা থেকে আনা ‘বাদশা আলী’ নামে একটি ষাঁড়। রোববার (১৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে সাগরিকা মূল বাজারে প্রবেশ করেই দেখা যায়, বিশাল আকৃতির গরুটির পরিচর্যা করছেন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

তিনি ঢাকা পোস্টকে  বলেন, পাঁচ বছর ধরে গরুটি নিজে লালন পালন করেছি। কোনো রকম ওষুধ  ছাড়াই ষাঁড়টি বড় করেছি। গরুটিকে ভুসি, ভুট্টা, খৈল, ঘাস, আপেল, কমলাসহ পুষ্টিকর খাবার দিয়েছি।

তিনি বলেন, বিক্রির জন্য বাজারে এনেছি বাদশা আলীকে। গরুটির ওজন ১ হাজার ৪০০ কেজি। এখন পর্যন্ত গরুটির পেছনে ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সাগরিকা পশুর হাটে বাদশা আলীকে নিয়ে আসছি চার দিন হলো। কিন্তু এখনও বিক্রি করতে পারলাম না। আমি বিক্রির জন্য ১৪ লাখ টাকা চাচ্ছি। কিন্তু ক্রেতারা সর্বোচ্চ সাড়ে আট লাখ টাকা বলছেন। এতো কষ্ট করে গরুটি লালন-পালন করেছি, এখন পর্যন্ত কেউ উপযুক্ত দাম বলেনি। আর মাত্র দুইদিন পরেই ঈদ। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রি করতে না পারলে অনেক লোকসান হয়ে যাবে।

আখলাক আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, বাজারে গরু কিনতে এসেছি। বড় গরুটি দেখার জন্য একটু দাঁড়ালাম। গরুটি দেখতে খুব সুন্দর।

তবে অনেকেই গরুটির ছবি তুলতে ও দেখতে আসলেও এক ঘণ্টা অবস্থান করে কাউকে দাম করতে দেখা যায়নি।

এই গরুটির পাশে বাঁধা ছিল কালো রঙের আরেকটি ষাঁড়। এ গরুটির নাম ‘কালা মানিক’। কালা মানিকসহ নওগাঁ থেকে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন জামান নামে এক ব্যবসায়ী।

জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১২টি গরুর মধ্যে ১১টি গরু বিক্রি করে ফেলেছি। এখন শুধু কালা মানিক বিক্রি বাকি আছে। সাড়ে ছয় লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম না পাওয়ায় বিক্রি করতে পারিনি। এখনও সময় বাকি আছে, দেখা যাক কী হয়।

কথা হয় বাজারে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাজারে বড় গরুর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। দুইটি গরু পছন্দ হয়েছে, কিন্তু দামে মেলেনি।

কুষ্টিয়া থেকে ১৩টি গরু নিয়ে সাগরিকা হাটে এসেছেন হুমায়ুন নামে এক ব্যবসায়ী। এখন পর্যন্ত ১টি গরু বিক্রি হয়েছে তার। তিনি বলেন, বেশি লাভের আশায় কুষ্টিয়াতে গরুগুলো বিক্রি না করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছি ট্রাক ভাড়া করে। যদি গরু ফিরিয়ে নিতে হয় তাহলে বড় ধরনের লোকসান হবে। ক্রেতারা এখনও প্রত্যাশিত দাম বলেননি।

হাফিজুর রহমান নামে আরেক গরু ব্যবসায়ী ঢাকা পোস্টকে বলেন, শহরে সাধারণত ঈদের আগের দিন বেশি বেচাকেনা হয়। ১২টি গরুর মধ্যে চারটি গরু বিক্রি করেছি, প্রত্যাশিত দামই পেয়েছি। 

পাহাড়তলী থেকে গরু কিনতে এসেছেন হাজী বিলু মিয়া। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুই ঘণ্টা হয়েছে বাজারে এসেছি। এখনও দামে মেলেনি। ব্যবসায়ীরা গরুর দাম বেশি চাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুতে ৫০ হাজার টাকা বেশি চাচ্ছেন। গত বছর যে গরু দেড় লাখ টাকা দিয়ে নিয়েছিলাম এ বছর একই আকারের গরু দুই লাখ টাকা দাম চাচ্ছেন তারা।

এদিকে ছাগলের বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। রাঙ্গামাটি থেকে বিল্লাল হোসেন বাজারের সবচেয়ে বড় খাসিটি নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। তিনি বলেন, একটু আগেই সাগরিকা বাজারে আসলাম। সাত মাসের বাচ্চা কিনে ২২ মাস লালন-পালন করেছি। দাম চাচ্ছি ২ লাখ টাকা।

সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, মাইকিং করে বাজারে আসা ক্রেতা বিক্রেতাদের মাস্ক পরতে অনুরোধ করছি। তারপরও সাড়া মিলছে না। সকালের দিকে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকে। বিকেলের পর থেকেই জমে উঠে বাজার। চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

কেএম/এসকেডি