গ্রেফতার হোসাইন হায়দার আলী

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মেসার্স জুবলী ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হোসাইন হায়দার আলী। ঋণ নেওয়ার পর সেই টাকা পরিশোধ না করেই ২০১২ সালে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। 

ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তৈরি করেন বিলাসবহুল বাড়ি। সেখানেই পরিবার নিয়ে আয়েশে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, হোসাইন হায়দার আলীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানায় ১০টি গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হয়েছে। হোসাইন হায়দার আলী চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার লাভ লেইন আবেদীন কলোনি এলাকার মৃত হায়দার আলী জিওয়ানীর ছেলে।

পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন বলেন, হোসাইন হায়দার আলী যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন চলে যান। ঋণ পরিশোধ না করায় আদালতে বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০টি মামলা করা হয়। ১০টি মামলার বিচার শেষে আদালত বিভিন্ন মামলায় তাকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। 

তিনি আরও বলেন, আসামির বাড়ি এবং প্রতিষ্ঠান কোতোয়ালি থানা এলাকায় হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা কোতোয়ালি থানায় আসে। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে তিনি চট্টগ্রামে ছিলেন না। তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে আমরা তার অবস্থান ঢাকার ভাটারা থানার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শনাক্ত করি। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসি।

ওসি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আসামি জানান, ঋণের টাকা আত্মসাতের পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন তিনি। সাজা ভোগ না করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে ঢাকায় একটি অভিজাত বাড়ি তৈরি করেন। ওই বাড়িতেই পরিবারসহ বসবাস করতেন হোসাইন হায়দার। আজ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

কেএম/এসকেডি