ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শিশুদের জন্য স্বতন্ত্রভাবে প্রস্তুত হচ্ছে বহির্বিভাগ। এ ক্ষেত্রে শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও চিত্তবিনোদনের বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। থাকছে অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। 

বর্তমান বহির্বিভাগ থেকে স্থানান্তর করে স্বতন্ত্র করা হবে শিশু বহির্বিভাগকে। এ জন্য সাত দিন ধরে কাজ চলছে। ডিসেম্বরে নতুন শিশু বহির্বিভাগে কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে আশা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, শিশুদের বহির্বিভাগে থাকবে মিনি শিশু পার্ক। শিশুরা পছন্দ করে এমন সব চিত্রাঙ্কন করা হচ্ছে দেয়ালে দেয়ালে। থাকছে মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য আলাদা স্থান। 

দেয়ালে থাকছে নানা ছবি

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, একটি হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগ হচ্ছে হাসপাতালের আয়নার মতো। রোগী এলে প্রথমে এই জায়গাতেই আসে। আমরা চেষ্টা করছি এই জায়গাগুলো আরেকটু ফ্রেন্ডলি করতে। নজর দিচ্ছি মানুষের কষ্ট কীভাবে দূর করা যায় সেদিকে। 

তিনি বলেন, বহির্বিভাগে আগে বসার ব্যবস্থা ছিল না, এখন হয়েছে। মানুষ একটু বসতে পারছে। টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না, একটি আধুনিক মানের টয়লেট বানানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগে প্রচুর ভিড় হয়। এতে রোগী ও স্বজনদের কষ্ট হতো। রোগীরা গরমে কষ্ট পেত। বসার মতো পরিবেশ ছিল না। তারপরও রোগীরা আমাদের এখানে আসত তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবাটা পাওয়ার জন্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, আমাদের একটা সুযোগ হয়েছে, একটা শেড পেয়েছি। আমরা শিশু বহির্বিভাগকে সেখানে শিফট করছি। সেখানে শুধু শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে। 

অটিজম সেন্টার সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আগে সেভাবে ফোকাস ছিল না। শিশু বহির্বিভাগে অটিজম সেন্টারটি খুব সুন্দর করে চালাতে চাই। 

তিনি বলেন, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং স্পেশালাইজড শিশু আমাদের দেশে কম নয়। সেসব শিশু যেন স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, চিকিৎসা নিতে এসে ঘরোয়া পরিবেশ পায় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে।

পরিচালক আরও বলেন, নতুন রূপে চালু করতে যাওয়া শিশু বহির্বিভাগকে শিশুবান্ধব করে গড়ে তুলছি। সেখানে খেলনা দিচ্ছি, দেয়ালে বিভিন্ন ছবি আঁকা হচ্ছে এবং সুন্দর ডেকোরেশন করছি। দেখেই যেন মনে হয় এটি শিশুদের এক ভিন্ন জগত। ব্রেস্ট ফিডিংয়ের জন্য আলাদা স্থান করা হয়েছে। ভেতরে সুন্দর টয়লেট করা আছে। হুইলচেয়ার নিয়ে টয়লেটে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বহির্বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল বাসার শিকদার ঢাকা পোস্টকে বলেন, নতুন রূপে চালু করতে যাওয়া শিশু বহির্বিভাগে শিশুদের সব ধরনের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের আলাদা রুম রাখা হয়েছে। অটিজম শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

এসএএ/এইচকে/জেএস