সড়ক দুর্ঘটনার নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান লিমনের ঘাতক গাড়ি চালকের বিচারের দাবি জানিয়ে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা নিরাপদ সড়কের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে অবস্থান নিয়েছেন লিমনের সহপাঠী এবং গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তারা প্রতীকী কফিনসহ ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সড়কে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন। কর্মসূচি চলাকালে অল্প সময়ের জন্য মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের তৎপরতায় আবার যান চলাচল শুরু হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা মিরপুর ১০ নম্বর ফুটওভার ব্রিজের নিচে অবস্থান নিয়ে সড়কে যান চলাচলের সুযোগ করে দেন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুতে জড়িত ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে আমরা সড়কে নেমেছি। আমাদের দাবি আমরা নিরাপদ সড়ক চাই, যেন সড়ক দুর্ঘটনায় আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। কোনো শিক্ষার্থীসহ অন্য কোনো মানুষের যেন সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু না হয়।

তারা বলেন, আমরা একটি নীরব মিছিল নিয়ে আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে মিরপুর-১০ নম্বর পর্যন্ত এসেছি। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করিনি, আমরা একটি শুধু দাবি নিয়ে সড়কে নেমেছি। আমরা ‘নিরাপদ সড়ক’ চাই। আমাদের ভাই, বন্ধু, সহপাঠী লিমনের মতো আর কাউকে যেন সড়কে এমন দুর্ঘটনার স্বীকার না হতে হয়। মাহাদি হাসান লিমনের মৃত্যুতে দায়ী ট্রাক চালকসহ তার সহকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার যেমন আমরা চাই, তেমনি চাই একটি নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা। ইচ্ছা করলে আমরা আন্দোলন করতে পারতাম, কিন্তু জনভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছি।

গত শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় লরির চাপায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মাহাদি হাসান লিমন নিহত হন। তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয় বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা-৪টার দিকে বিমানবন্দর সড়কের লা মেরিডিয়ান হোটেল পার হয়ে পদ্মা গেটের সামনে এলে একটি লরি লিমনের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে। দুর্ঘটনার পর লরি চালক পালিয়ে যায়। তবে লরিটি আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

এএসএস/এসএসএইচ