মানবিকতা, বন্ধুত্ব ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিষয়ক যেসব বার্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়ে গেছেন তার মাধ্যমে সমসাময়িক বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড গফ হুইটলামের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক আদর্শের ওপর অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

ক্যানবেরার বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হুইটলাম ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন ক্যানবেরা ও কনস্যুলেট জেনারেল সিডনি যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। হুইটলাম ইনস্টিটিউটে মাসব্যাপী গফ হুইটলাম এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে। যা জানুয়ারি পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ড. মোমেন বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ ও এ ক্ষেত্রে তার পররাষ্ট্রনীতির অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালন এবং দু’নেতার জীবন ও কর্ম উদযাপনের মাধ্যমে দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে। পাশাপাশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতাও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্যারেথ ইভানস স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর বার্নে গ্লোভার মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ও হুইটলামের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংসদীয় গণতন্ত্র দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি। এ দু’নেতার চিন্তা-চেতনা ও প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের উন্নয়ন ও বাণিজ্যের ঊর্ধ্বে নিরাপত্তা ও ভৌগলিক বিষয়েও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এবং অস্ট্রেলিয়ার মনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার জেনি হকিং মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

ইমতিয়াজ আহমেদ বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ও সমসাময়িক বিশ্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অপরদিকে অধ্যাপক জেনি হকিং উন্নয়নশীল বিশ্বের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক স্থাপনে হুইটলামের অবদানের ওপর আলোচনা করেন। 

শান্তিপূর্ণ ভারতীয় মহাদেশীয় এলাকা ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় মহান এ দু’নেতার  অঙ্গীকারের বিষয়ে তারা আলোকপাত করেন। জেনি হকিং স্মরণ করেন কীভাবে জনগণের মঙ্গলার্থে বঙ্গবন্ধু ও হুইটলাম তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

বঙ্গবন্ধু ও হুইটলামের স্বপ্ন, দূরদর্শিতা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিবিধ সংস্কার এবং অবদানের কথা উল্লেখ করেন হাইকমিশনার সুফিউর রহমান। মহান দু’নেতার বিষয়ে ও বাংলাদেশ বিষয়ে অধিক অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সিডনিতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম।

এনআই/ওএফ