ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সিলসিলা’ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত কাওয়ালি গানের আয়োজনে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আসক। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিএসসির সঞ্জীব চত্বরে কাওয়ালি গানের আয়োজনে আয়জকদের সাঁটানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন ও তার অনুসারীরা; তার উপস্থিতিতে মঞ্চে ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়। এতে আহত হয়েছে ১৫ জন। আরও অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ও শিল্পীদেরকেও মারধর করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। 

আয়োজকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেইনের ইন্ধনে তাদের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া করা সাউন্ড সিস্টেমের স্বত্বাধিকারী বিকেলের দিকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে অন্য জায়গা থেকে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া করে আনা হয়। আয়োজকরা গণমাধ্যমকে আরো জানিয়েছেন যে, অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তারা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আসছিল। যদিও সাদ্দাম হোসেইন অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মনগড়া ও কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন।

কাওয়ালি এ উপমহাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি সংগীত, যার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। টিএসসির মতো একটি জায়গায় এ ধরনের আয়োজনে হামলা চালানোর ঘটনা অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। আসক বিশ্বাস করে, এ হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যাবশ্যকীয়। অন্যথায় এমন বেপরোয়া আচরণ অব্যাহত থাকবে। 

কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এ হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে আসক।

ওএফ