সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি বলছে, চক্রটি সম্প্রতি অভিনব কায়দায় বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে চাকরি দেবার কথা বলে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। টাকা আত্মসাতের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়। চাকরির গ্যারান্টি দিয়ে টাকার গ্যারান্টি হিসেবে ব্ল্যাংক চেক ও ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প নিতো ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ঈমাম হোসেন।

তিনি বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ১১টায় পল্টন থানায় মিরাজুল ইসলাম নামে (৩১) এক ভুক্তভোগীসহ চার ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রের মূলহোতা হারুন অর-রশিদকে (৩৬) ঢাকার কেরানীগঞ্জ হতে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নওগাঁ বদলগাছির মৃত আ. জলিলের ছেলে। 

তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেকেন্দার আলী (৩৪) ও মাসুদ রানাকে (২৩) কাফরুল থানার মিরপুর-১৪ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ভুয়া নিয়োগপত্র ৪টি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আবেদনপত্র তিনটি, ভিকটিমদের স্বাক্ষরিত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক ৬টি, ভিকটিমদের স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প ২৪টি, মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সরকারি চাকরির জন্য সুপারিশকৃত ভুয়া ডিও লেটার ও বিভিন্ন ব্যক্তির ছবি ও অন্যান্য কাগজপত্র সম্বলিত বায়োডাটা জব্দ করা হয়।

ঈমাম হোসেন বলেন, যেসব চাকরিতে পদ কম থাকে সেইসব চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখায়। কারণ ওই সব চাকরি হবার সম্ভাবনা খুবই কম। বেকার যুবকদের চাকরি অফার দিলে অনেকেই রাজি হয়। তিন থেকে ৫ লাখ টাকা অগ্রিম নিয়ে নেয়। কাকতালীয়ভভাবে কখনো চাকরি হয়ে গেলে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয় চক্রটি।

ঈমাম হোসেন বলেন, বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য চক্রটি চাকরি পাবার পর বাকি টাকা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক ও ব্ল্যাংক স্ট্যাম্প নিয়ে নিয়ে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে যে, চাকরি আপনার হবেই। এভাবেই প্রতারক চক্রটি ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। শুধু তাই নয়, চক্রটি বদলী বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। বিভিন্ন মানবিক কারণ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বদলীতে আগ্রহীদের বদলির তদবির করত চক্রটি। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।

জেইউ/এইচকে