দেশে দ্রুত গতিতে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এই অবস্থায় সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পাশাপাশি অর্ধেক লোকবল দিয়ে অফিস আদালত পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আরও পড়ুন : বর্তমানে সংক্রমণের ৭০ শতাংশই ওমিক্রন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরে আয়োজিত দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, এটা খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে চলে আসবে। গণপরিবহনে যাতে ভোগান্তি না হয়, সেজন্য অর্ধেক লোক দিয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ

জাহিদ মালেক বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেই ১১ দফা বিধিনিষেধ। সবাইকেই এগুলো মেনে চলতে হবে। আমরা আগেও বিধিনিষেধ দিয়েছি, এগুলো কার্যকরের চেষ্টা চলছে। সংক্রমণ যাতে কমে সেজন্য এই সিদ্ধান্ত। পরিবার, দেশে ও নিজের সুরক্ষার জন্য আমাদের নিয়মগুলো মানতে হবে।

‘নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রশাসনের’- এমনটা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা চাইব, তারা যেন আরও নজরদারি বাড়ান। জনগণের দায়িত্ব আরও বেশি। নিজেদের সুরক্ষায় বিধিনিষেধ নিজেদেরই পালন করতে হবে। সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

টিকার লক্ষ্যমাত্রা ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাড়ে ১২ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা বলে এসেছি। তা কিন্তু ৭০ ভাগের মধ্যে। অনেকে বাইরে থাকে। সবমিলিয়ে আমরা ১৫ কোটি ১০ লাখ টিকা দিয়েছি, হাতে ৯ কোটি আছে। আমরা জনসনের তিন লাখ ৩৭ হাজার টিকা পেয়েছি, আরও আসবে।

এর আগে গত বছরের ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক নির্দেশনায় জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব সরকারি, বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানা ৫০ ভাগ জনবল দিয়ে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে গর্ভবতী, অসুস্থ ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের বাড়িতে অবস্থান করে কাজ করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। পরবর্তীত সময়ে ৪ এপ্রিল থেকে সরকারি সব দফতরে অর্ধেক জনবলে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়।

টিআই/এমএইচএস