ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, দীর্ঘদিন জুলুম সহ্য করে জনগণ যখন আগামী নির্বাচন নিয়ে সরব হয়েছে, ঠিক তখনই বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু হয়ে গেছে। তারা (আওয়ামী লীগ) এখন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মরণকামড় দেবে। 

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নব গঠিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 
 
উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে নুর বলেন, আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, জীবিত থাকতে আমরা আর বিনাভোটের নির্বাচন হতে দেব না। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিরোধীদলের ওপর দমন-পীড়ন চলবে। আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। ছাত্র-জনতাকে এক হয়ে লড়াই করে যেতে হবে।

ডা. জাফরুল্লাহকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জাফরুল্লাহ স্যার যেটি বলেছেন, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাদুকর এ সরকার’ বাস্তব কথা তা-ই। এরা বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে। এক বাহিনীকে এক বাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। মোদিবিরোধী আন্দোলন করার কারণে আমাদের প্রত্যেক ছাত্রনেতাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। দিনের পর দিন গরুর মতো ঝুলিয়ে রেখেছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে তাদের রাজনীতি না করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ সরকার বাংলাদেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। আগে দেখেছেন সামরিক শাসন, এখন দেখবেন পুলিশি শাসন। আজকের প্রোগ্রাম থেকে আমরা বলতে চাই, মোদিবিরোধী প্রোগ্রাম থেকে ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামা যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, যুব পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহ, শ্রমিক পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান প্রমুখ।

এইচআর/আরএইচ