লিভার সিরােসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া প্রসঙ্গে আবারও বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসােসিয়েশন (বিএমএ)। সংগঠনটির দাবি, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে বিএমএর দফতর সম্পাদক ডা. মোহা. শেখ শহিদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কতিপয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সম্প্রতি নেতিবাচক বক্তব্য রাখছেন, যা এদেশের চিকিৎসা পেশায় জড়িত সকলকে হতাশ করেছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা আন্তর্জাতিক মানেরই হচ্ছে যা দেশের অনেক হাসপাতালে বিদ্যমান। দেশের যে কোনো নাগরিকের দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি পুরােপুরি আইনগত যা আদালতের মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

আরও বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। এমডিজি অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের যে কোনো চিকিৎসা সহজে পাওয়া যায়। লিভার প্রতিস্থাপন, কিডনি প্রতিস্থাপন, বোনম্যারো প্রতিস্থাপনসহ অনেক জটিল অপারেশন বাংলাদেশে হচ্ছে। এছাড়াও ক্যানসার, হৃদরােগসহ অনেক রােগের উন্নত চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে হচ্ছে

করােনা মহামারিতে যখন বিদেশ গমন সীমিত বা বন্ধ ছিল তখন মানুষ দেশেই মানসম্মত চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে। দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে যে, নেতৃস্থানীয় সকল ব্যক্তিবর্গ দেশেই চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। আমরা আশা করি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কেবল রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল মেডিকেল শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অহেতুক হেয় করা থেকে বিরত থাকবেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরদানকারী অন্যতম বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা হলেন, অধ্যাপক ডা. মাে. টিটু মিয়া, অধ্যাপক ডা. মাে. শফিকুল আলম চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ কে এম মােশাররফ হােসেন, অধ্যাপক ডা. মাে. জাহিদ হােসেন, অধ্যাপক ডা. এসএম মােস্তফা জামান, অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক, অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব সপ্নীল, অধ্যাপক ডা. জুলফিকার রহমান খান, অধ্যাপক ডা. দেবেশ চন্দ্র তালুকদার, অধ্যাপক ডা. শেখ নুরুল ফাত্তাহ রুমী, অধ্যাপক ডা. এস এম সামসুজ্জামান, অধ্যাপক ডা. অখিল রঞ্জন বিশ্বাস, অধ্যাপক ডা. মাে. শহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু, অধ্যাপক ডা. দিলরুবা বেগম, অধ্যাপক ডা. অধীর কুমার দাস, অধ্যাপক শাহানারা ইয়াসমিন, অধ্যাপক ফখরুল আমিন খান, অধ্যাপক মাসুদা খান, অধ্যাপক মাে. শফিকুল বারী, অধ্যাপক মাে. হাফিজ সরদার, অধ্যাপক মাে. আসাদুল কবির প্রমুখ।

এর আগে সোমবার (২৯ নভেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএমএ জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম।

এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচনাকারীদের দাবি, সরকার দলীয় মন্ত্রী এমপিরা সামান্য অসুখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিদেশ যাওয়ার বিরুদ্ধাচরণ করছে বিএমএ। অনেকেই বিএমএকে সরকার দলীয় চিকিৎসক সংগঠন বলে আখ্যায়িত করেন। এসব সমালোচনার জবাবে বিএমএ আজ আরেকটি বিবৃতি দেয়।

টিআই/এসকেডি