শিক্ষা জীবন নিজেকে গড়ে তোলার সময়। এই সময় পড়াশোনার বাইরে উপার্জন বা অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ থাকে না শিক্ষার্থীদের। তবে অনেক ক্ষেত্রে বিশাল ব্যয় বহন করে পড়াশোনা করা সম্ভব হয় না। পাঠ্যপুস্তক, বিভিন্ন ধরনের নোট-গাইট ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ কেনা সম্ভব হয় না সবার পক্ষে। শিক্ষা জীবন থমকে যাওয়ার মুখোমুখি হয় অনেকের।

বিশেষ করে দেশের শিক্ষা ধারায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের যেসব পাঠ্যপুস্তক বৈরুত, মিশর, পাকিস্তান, হিন্দুস্তান ইত্যাদি রাষ্ট্র থেকে ছেপে আসে এগুলোর ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সবাই তা থেকে উপকৃত হতে পারে না। তাই কারো ওপর জাকাত ফরজ হলে তিনি সেই টাকা শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেওয়ার কাজে ব্যয় করতে পারবেন কি?

জাকাত ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। দ্বিতীয় হিজরিতে মুসলমানদের ওপর জাকাত ফরজ হয়। এ সর্ম্পকে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এবং তোমরা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য জাকাত আদায় করো। অত:পর তিনি তা দ্বীগুণ করে দেবেন। (সুরা: আর-রুম,আয়াত : ৩৯)

পবিত্র কোরআনে জাকাতের আটটি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনের ভাষ্য-

نَّمَا الصَّدَقٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَ الْمَسٰكِیْنِ وَ الْعٰمِلِیْنَ عَلَیْهَا وَ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَ فِی الرِّقَابِ وَ الْغٰرِمِیْنَ وَ فِیْ سَبِیْلِ اللهِ وَ ابْنِ السَّبِیْلِ فَرِیْضَةً مِّنَ اللهِ وَ اللهُ عَلِیْمٌ حَكِیْمٌ.

জাকাত হলো কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত উসূলকারী ও যাদের চিত্তাকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক এবং তা দাস মুক্তির জন্যে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (জিহাদকারীদের জন্য) এবং মুসাফিরদের জন্যে। এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (সূরা তাওবা, ৬০)

ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জাকাতের ফরজকে তাঁর কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অতএব আল্লাহ তায়ালার বণ্টনের বাইরে ভিন্ন খাতে বণ্টন করার অধিকার কারো নেই। 

এর আলোকে ফুকাহে কেরাম বলেন, যদি মাদরাসা বা দ্বীনি শিক্ষা অর্জনকারী কোনো শিক্ষার্থী গরিব ও প্রকৃত অর্থে জাকাত পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে তাকে বই কেনার জন্য জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে। এতে জাকাত আদায় হয়ে যাবে এবং দ্বীনী কাজে সহায়তার সওয়াবও পাওয়া যাবে। তবে মাদরাসা শিক্ষার্থী বা দ্বীনি শিক্ষা অর্জনকারী প্রকৃত হকদার না হয় তাহলে তাদেরকে জাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে না।

এমনকি পাঠাগার বা কোনো প্রতিষ্ঠানে জাকাতের টাকা দিয়ে কিতাব কিনে দেয়া যাবে না। কারণ কোরআনে জাকাতের খাত বর্ণনা করা হয়েছে। এর বাইরে জনকল্যাণমূলক কোনো কাজ, তা যতই গুরুত্বপূর্ণ বা ফজিলতপূর্ণ হোক, সেটা জাকাতের খাত নয়। 

ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জাকাতের ফরজকে তাঁর কিতাবে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। অতএব আল্লাহ তায়ালার বণ্টনের বাইরে ভিন্ন খাতে বণ্টন করার অধিকার কারো নেই। (কিতাবুল উম্ম ২/৭৭)

- (সূত্র : মাবসূত, সারাখসী ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫৮;  আলবাহরুর রায়েক ২/২২১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৭, ২৮৫, ২৯৭, ৩৪৪)

এনটি