প্রতীকী ছবি

এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুমিনরা একে অপরের ভাই ও কল্যাণকামী। অন্যের খুশি, আনন্দে অংশ নেওয়া, বিপদ-আপদে এগিয়ে আসা, সহানুভূতি প্রকাশ করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব-কর্তব্য। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ঈমানদারদের সাথে একজন ঈমানদারের সম্পর্ক ঠিক তেমন যেমন দেহের সাথে মাথার সম্পর্ক। সে ঈমানদারদের প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট ঠিক অনুভব করে যেমন মাথা দেহের প্রতিটি অংশের ব্যথা অনুভব করে। -(মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩৪০)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনগণ তো পরস্পর ভাই ভাই; কাজেই তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপোষ মীমাংসা করে দাও। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ -(সুরা হুজরাত : আয়াত ১০)

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলোকরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর দায়িত্বশীল বা সাহায্যকারী বন্ধু। (এদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য হলো) তারা নেক কাজের আদেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে। আল্লাহ ও রাসুলের বিধান মেনে চলে। তাদের প্রতিই আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করেন।’ -(সূরা তওবা : ৭১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণ কামনাকে দ্বীন বা ইসলামের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। হজরত তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণিত,

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কল্যাণ কামনাই দ্বীন। আমরা জানতে চাইলাম, কার জন্য কল্যাণ কামনা? তিনি বললেন, আল্লাহর, তাঁর কিতাবের, তাঁর রাসুলের, মুসলিম শাসক এবং মুসলিম জনগণের। -(মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১০২, ২৩, বুখারি : ৫৭)

হাদিস বিশারদদের মতে, এর ব্যাখা হলো-মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান , তাঁর একত্ববাদের স্বীকারোক্তি প্রদান এবং তাঁকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র জানতে হবে। সেই সঙ্গে আল্লাহ তায়ালাকে সকল পরিপূর্ণ গুণে গুণান্বিত মনে করতে হবে। আরো বিশ্বাস রাখতে হবে যে, কোরআন আল্লাহর কালাম। এটি তাঁর নবীর ওপর নাজিল হয়েছে। এটি তার সৃষ্টি নয়। 

এর পাশাপাশি কোরআনের সুস্পষ্ট বিধানের ওপর আমল এবং তার মুতাশাবিহ এর প্রতি ঈমান রাখতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তাকে সত্যায়ন করতে হবে, তার নির্দেশ ও তার নিষেধ থেকে বিরত থাকতে হবে।

...সাধারণ মুসলিমকে সত্যের দিকে আহ্বান করতে হবে, সাধ্যানুসারে অন্যের কষ্ট দূর করার চেষ্টা করতে হবে, তাদের সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। অন্যের কল্যাণ কামনার সারাংশ হচ্ছে: আমরা নিজেদের জন্যে যা পছন্দ করবো তাদের জন্য সেটাই পছন্দ করব।

আরেক হাদিসে এসেছে। হজরত আবু বকর ইবনু আবু শায়বা (রহ.) হজরত জারীর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার থেকে তিনটি বিষয়ে ‘বাইআত’ নিয়েছেন। এক, নামাজ কায়েম করা। দুই, জাকাত আদায় করা। তিন, প্রত্যেক মুসলমানের কল্যাণ কামনা করা। -(মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১০৫, ২৩, বুখারী: ৫৫)

জারীর ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে আরেক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন, আমি প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনার শর্তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে বায়আত করেছি। -(মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, ১০৬, ২৩)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক মুসলিম আরেক মুসলমানের ভাই। সে তার ওপরে জুলুম করে না, তাকে সহযোগিতা করা পরিত্যাগ করে না এবং তাকে লাঞ্ছিত ও হেয় করে না। কোন ব্যক্তির জন্য তার কোন মুসলিম ভাইকে হেয় ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করার মত অপকর্ম আর নাই। (মুসনাদে আহমাদ: ১৬/২৯৭, ৭৭৫৬) 

আরো একটি হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মুমিনগণ পরস্পরের জন্য একই প্রাচীরের ইটের মত একে অপরের থেকে শক্তিলাভ করে থাকে। (বুখারী: ২৬৪৬, মুসলিম: ২৫৮৫) 

অন্য হাদিসে এসেছে, আল্লাহ বান্দার সহযোগিতায় থাকেন যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সহযোগিতায় থাকে। (মুসলিম: ২৬৯৯) হাদিসে আরো এসেছে, কোন মুসলিম যখন তার ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করে তখন ফেরেশতা বলে, আমীন। (কবুল কর।) আর তোমার জন্যও তদ্রূপ হোক। (মুসলিম: ২৭৩২)

এনটি