প্রতীকী ছবি

চাকরিজীবীদের বেতনের উপর জাকাত ওয়াজিব হবে কি না? যদি এক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হয়, তাহলে সেটা নির্ধারণের মানদণ্ড কী হবে?

এই প্রশ্নের উত্তরে আলেমরা বলেন, চাকরির বিনিময়ে পাওয়া বেতনের মাধ্যমে নিজের খরচ, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের খরচ ইত্যাদি নির্বাহের পর যদি ঋণ পরিশোধ করে অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার দাম পরিমাণ টাকা থাকে, আর এ টাকা বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে, যদিও মাঝে কম বেশী হয়, তাহলে এই টাকার উপর জাকাত ওয়াজিব হবে।

আর যদি টাকা একত্রে জমা না হয় বরং জমা হওয়ার আগেই খরচ হয়ে যায়, তাহলে এই বেতনের টাকায় জাকাত ওয়াজিব হবে না। (আদ-দুররুল মুখতার, ২/ ২৬০,২৬২, ৩০২, হেদায়া, ১৯৬, ২০৮, আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/ ২৫৪, ৩৭৩, খাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া, ২/ ৪৩)

চাকরিজীবীদের জাকাতের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। কারণ, এটি মহান আল্লাহর অবশ্যপালনীয় বিধান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র আল-কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এবং যারা সোনা ও রুপা জমা করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, আপনি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দিন, যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) এটা তা-ই, যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ করো।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩৪-৩৫)

এই আয়াতে জমা করা সোনা ও রুপাকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করে ললাট, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশ দগ্ধ করে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে অবৈধভাবে অর্থ-সম্পদ অর্জন করে জমা করা কিংবা বৈধ পন্থায় জমা করেও জাকাত আদায় না করা বা পরিপূর্ণভাবে সব সম্পদের জাকাত আদায় না করাও আজাবের কারণ হিসেবে ধর্তব্য হবে।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু সে এর জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে টাক (বিষের তীব্রতার কারণে) মাথাবিশিষ্ট বিষধর সাপের আকৃতি দিয়ে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। সাপটি তার মুখের দুই পাশ কামড়ে ধরে বলবে, আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার জমাকৃত সম্পদ।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪০৩)

যারা তাদের পালিত পশুর জাকাত আদায় করে না, তাদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আর যেসব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর জাকাত আদায় করবে না, কিয়ামতের দিন উট, গরু, ছাগল মোটাতাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে এবং তাকে (মালিককে) ওদের পা ও খুর দিয়ে দলিত-মথিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। এক পশু অতিক্রম শেষ করলে প্রথমটি পুনরায় এসে এমন করতে থাকবে। আর এভাবে চলতে থাকবে, যতক্ষণ না মানুষের বিচার শেষ হবে। (মুসলিম, হাদিস : ২১৯০)