ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণ টেস্ট মানে টিকে থাকার লড়াই। পাঁচ দিনব্যাপী অনির্ধারিত ওভার খেলার পর ম্যাচের ফল আসে। এখানে জয়-পরাজয়ের বাইরেও আছে তাৎপর্যপূর্ণ ড্র। যা জয়-পরাজয়ের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়। কিন্তু টেস্টের সেই চিরাচরিত ধারা যেন বর্তমান ইংল্যান্ড দলের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে। টেস্টকে রীতিমতো ওয়ানডে ম্যাচে রূপ দিচ্ছেন ম্যাককালামের শিষ্যরা। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে চলমান টেস্টে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ৬ মারার রেকর্ড গড়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস।

এর মাধ্যমে স্টোকস সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ও বর্তমান ইংলিশ কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে পেছনে ফেলেছেন। এতদিন পর্যন্ত সাদা পোশাকে সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ড ছিল ম্যাককালামের দখলে। তিনি ১০১ টেস্টে ১০৭ ছক্কা মেরেছেন। রেকর্ড গড়ার দিনে ৯০তম টেস্ট ম্যাচ শেষে স্টোকসের ছয়ের সংখ্যা ১০৯টি।

রেকর্ড গড়া ছক্কা মারার পর ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট উঁচিয়ে ইঙ্গিত করেন স্টোকস। সেখানে বসে থাকা কোচ ম্যাককালাম করতালিতে তাকে অভিবাদন জানান। তবে স্টোকস টেস্টে সর্বোচ্চসংখ্যক ছয় মারার রেকর্ডটি যে বেশ কিছুদিন দখলে রাখবেন, তা এখনই বলে দেওয়া যায়।

টেস্ট ইতিহাসে ন্যূনতম ১০০ ছক্কা মারার কীর্তি খুব বেশি ব্যাটারের নেই। ম্যাককালাম ও স্টোকস ছাড়া শুধু আর একজন এই মাইলফলকের দেখা পেয়েছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক–ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ৯৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে তিনি ১০০টি ছক্কা মেরেছেন।

বর্তমানে খেলছেন, এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে ৭৬ ছক্কা নিয়ে স্টোকসের পরই দুইয়ে নিউজিল্যান্ডের পেসার টিম সাউদি। বোলার হওয়ায় ৩৪ বছর বয়সী সাউদি স্টোকসের রেকর্ডটি ভাঙতে পারবেন কি না, এ নিয়ে সন্দেহে ভোগা লোকের সংখ্যাই বেশি হবে। বর্তমান ব্যাটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ ৬৬ ছক্কা মেরেছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ৬৪ ছক্কা মেরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রায় পুরোটাই এখন ইংলিশদের দখলে। ওয়ানডে স্টাইলে প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড। বেন ডাকেটের ৮৪, হ্যারি ব্রুকের ৮৯ এবং ওলি পোপের ৪২ রানের সুবাধে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে তারা। নিউজিল্যান্ডের নীল ওয়াগনার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন।

আরও পড়ুন : ‘টাকার আইপিএলে টেস্টের সর্বনাশ দেখছেন বোথাম’

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯ রান বাকি থাকতে অলআউট হয় কিউইরা। উইকেটরক্ষক ব্যাটার টম ব্লান্ডেল ১৩৭ রানের দারুণ ক্যামিও এবং ওপেনার ডেভিড কনওয়ে ৭৭ রান করেন। ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন চারটি এবং জেমস এন্ডারসন নেন ৩টি উইকেট।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশ ব্যাটাররা আরো জোরে হিট করতে থাকেন। তাদের লক্ষ্য ছিল অল্প সময়ে বড় সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ডকে লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া। সফলও হয়েছে তারা। ৭৪ ওভার ব্যাট করে অলআউট হওয়ার আগে ৩৯৪ রানের বড় টার্গেট দেয় তারা। কিউই বোলার ব্রেসওয়েল ও টিকনার সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন।

ইংলিশদের পাতা ফাঁদে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে কিউইরা। স্টুয়ার্ট ব্রডের চার উইকেট শিকারের মাধ্যমে তারা ৬৩ রানেই ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে বসেছে। হাতে বাকি আছে আরও দুদিন। ৫ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ৩৩১ রান। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের ঝাণ্ডা কোনদিকে ঝুঁকে গেছে, সেটি আন্দাজ করা কঠিন নয়!

এএইচএস