বাংলাদেশ ফুটবলে চিরন্তন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অল্প কয়েকটি নামের একটি মতিউর মুন্না। জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়কের গোল্ডেন গোলে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে সাফের সেমিফাইনালে জিতেছিল। টুর্নামেন্টে নক আউট ম্যাচে ৯০ মিনিট খেলা অমীমাংসিত থাকলে এখন আর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোল্ডেন গোলের নিয়ম নেই। মতিউর মুন্নার সেই গোলই বাংলাদেশে একমাত্র গোল্ডেন গোলে জয় পাওয়া ম্যাচ। পাশাপাশি সেই ম্যাচই সর্বশেষ ভারতকে হারানো ম্যাচ।

এমন ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ফুটবলার এখন ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন। তার সমসাময়িক অনেক ফুটবলার কেউ কোচিংয়ে আবার কেউ সংগঠক হিসেবে ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। কিন্তু মুন্না এখন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। ফুটবল বিমুখতার সুনির্দিষ্ট কোনে কারণও নেই অবশ্য, ‘আসলে খেলা ছাড়ার পর একেক জন একেক পথ বেছে নেয়। আমি কোচিং, ম্যানেজার, সংগঠক ওদিকে আর অগ্রসর না হয়ে ব্যবসায়ে আগ্রহী হয়েছি।’

মুন্নার মতো আরমান মিয়া ও আরো কয়েকজন বর্তমান ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও সাবেক ফুটবলারের সংগঠন সোনালী অতীত ক্লাবে আসেন মাঝে মধ্যে। গোল্ডেন বয় মুন্না স্টেডিয়াম এলাকা একেবারে ছেড়েই দিয়েছেন, ‘আমি এখন নিকেতনে থাকি। এখান থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব বেশি না হলেও যানজটের জন্য অনেক সময় লেগে যায়।’

সাফ ফুটবল, সাফ গেমসে শিরোপাজয়ী এই ফুটবলার ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে পারেননি। ২০১৩-১৪ মৌসুমে মোহামেডানে খেলাবস্থায় পারিবারিক এক সমস্যায় ফুটবল থেকে মনোযোগ ধীরে ধীরে সরে যায়। এক পর্যায়ে আর ফুটবলে ফিরেননি। সেটা নিয়ে অবশ্য তেমন আক্ষেপ নেই সাবেক কৃতি মিডফিল্ডারের, ‘ফুটবল তো অনেক খেলেছি। হয়তো আনুষ্ঠানিক বিদায় সেভাবে হয়নি। মানুষ মুন্নাকে মনে রেখেছে এটাই বড় পাওয়া। ফুটবল রক্তে রয়েছে ফলে বিচ্ছিন্নতার কিছু নেই। সময় পেলেই ফুটবল দেখি। ক্লাব ফুটবল সেভাবে না দেখা হলেও জাতীয় দলের ম্যাচগুলো দেখি টিভিতেই। তিন দিন আগে আফগানিস্তানের ম্যাচও দেখেছি।’

আজ সোমবার ভারতের বিরুদ্ধে লড়বেন জামালরা। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই আলোচনায় মুন্নার গোল্ডেন গোল। সেই গোলটিকে তার ক্যারিয়ার ও জীবনের সেরা মুহূর্ত বললেন, ‘আসলে একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও ফুটবলপ্রেমী ও ইতিহাসে থাকে কয়েকটি মুহূর্ত। আমি সৌভাগ্যবান যে এমন একটি মুহূর্তের আমি সাক্ষী যা আর দ্বিতীয় কেউ হতে পারবে না। ওই গোল্ডেন গোলই আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।’

তার সেই গোলের পর গত ১৮ বছরে আরও অনেকে ভারতের বিরুদ্ধে গোল করলেও মুন্নার মতো জেতাতে পারেননি কেউ, ‘আমার মনে হয়, ভারতের বিরুদ্ধে আমরা বেশি চাপ নিয়ে ফেলি। চাপমুক্ত থেকে স্বাভাবিক খেলা খেলতে হবে।’ -বলেন মুন্না। 

দেখা যাক আজ সোমবার কাতারের মাঠে মুন্নার ভারত বধের উত্তরসূরি পাওয়া যায় কীনা।  

এজেড/এটি/টিআইএস