অনেকের মতেই সর্বকালের সেরা ফুটবলার জাদুকরী ড্রিবলিংয়ে বারবার বিশ্বকে মুগ্ধ করা লিওনেল আন্দেস মেসি। বার্সেলোনায় থাকাকালীন ছিলেন দল ও কোচিং স্টাফের মধ্যমণি হয়ে। তার অমতে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেয়ার চিন্তাও মনে হয় করতে পারেননি কোন বার্সা কোচ। কিন্তু প্যারিস সেন্ট জার্মেইঁ শিবিরে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন।

ক্যাম্প ন্যুতে থাকাকালীন মেসি ছিলেন বাদশাহ। বার্সেলোনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও যে তিনি। কাতালানদের হয়ে খেলেই জিতেছেন ৬টি ব্যালন ডি অ'র। এত এত অর্জন তাকে নিয়ে গিয়েছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নানাবিধ তিক্ত অভিজ্ঞতায় গেল কয়েকটি মৌসুম বার্সার জন্য তেমন সুখকর না হলেও মেসির আধিপত্যে বাগড়া দিতে পারেননি কেউই। তবে তারকা দিয়ে ঠাসা পিএসজি শিবিরে নিজের অসীম তারকাখ্যাতি যে খুব একটা কাজে আসছে না মেসির তা বলাই যায়। 

মেসির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেয়া মাত্রই জায়গা পেয়েছেন প্রথম একাদশে। কিন্তু পিএসজির প্রথম একাদশে জায়গা পেতে এই বিশ্বসেরাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে এক মাসেরও বেশি সময়। বার্সেলোনা দলে যে সম্মানটা পেতেন তিনি তা প্যারিসে যেন কিছুটা ম্রিয়মাণ। 

লিওনের বিপক্ষে খেলায় ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি লাভ করে পিএসজি। ব্যক্তিজীবনে মেসিকে প্রচণ্ড সম্মান করা নেইমার এদিন যেন ভুলে গেলেন তার সাবেক বার্সা সতীর্থের কথা। সোজা বলটা তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন পেনাল্টি নিতে। পিএসজির জায়গায় দলটা যদি বার্সেলোনা হত, নেইমার কি পারতেন মেসির সমর্থন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নিতে? 

দলটির মিডফিল্ডার আন্দ্রে হেরেরা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেছিলেন, পেনাল্টির নেওয়ার ক্ষেত্রে মেসি, নেইমার এবং এমবাপে রক, পেপার ,সিজার খেলতে পারেন। তার এই বক্তব্য ও নেইমারের এমন আচরণে স্পষ্ট রাজার মতো সম্মানটা ফ্রান্সে পাবেন না লিও।

লিওনের বিপক্ষে সেই ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মরিসিও পচেত্তিনো যখন মেসিকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, অবাক হয়ে যান অনেকেই। আর্জেন্টাইন জাদুকরও মেনে নিতে পারেননি কোচের এমন সিদ্ধান্ত। পচেত্তিনো হাত বাড়িয়ে দিলেও মেসি হাত মিলাননি তার সাথে। ক্ষোভটা স্পষ্ট ফুটে উঠছিল তার অভিব্যক্তিতে। যদিও মেসিকে ইনজুরির হাত থেকে বাঁচাতেই এমনটা করেছেন বলে দাবি কোচের।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পিএসজি কোচ বলেন, ‘দলের ভালোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া। আমাদের প্রচুর সেরা খেলোয়াড় রয়েছে। মেসিকে সম্ভাব্য ইনজুরি থেকে বাঁচাতেই তাকে উঠিয়ে নিয়েছি আমরা। সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলা রয়েছে আমাদের।’

মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ আর্সেনালের কিংবদন্তি ফরাসি স্ট্রাইকার থিয়েরি হেনরি বুঝতে পেরেছেন মেসির কষ্ট। তিনি বলেন, ‘তার প্রতিক্রিয়া আমাকে অবাক করেনি। সে থাকতে চেয়েছিল যাতে গোল দিতে পারে।’ 

পিএসজিতে আধিপত্য বিস্তার করতে হলে যে আবার নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে তা এতদিনে বুঝে গেছেন মেসি। নিশ্চয়ই ভক্তদের প্রত্যাশার সঙ্গে দ্রুতই নতুন আবহাওয়ায় মানিয়ে নিয়ে খেলা দিয়েই সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই মহাতারকা।

এআইএ/টিআইএস