অধিনায়ক লিওনেল মেসি নেই। তাতে কী? কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির কাছে লাওতারো মার্টিনেজ তো ছিলেন। তার অধীনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা গোল পেলেন কলম্বিয়ার বিপক্ষেও। তার একমাত্র গোলেই জয় তুলে নিল আলবিসেলেস্তেরা। তাতে স্ক্যালোনির শিষ্যরা তাদের অপরাজিত যাত্রাটাকে উন্নীত করল ২৯ ম্যাচে।

মেসি ছিলেন না, নিষেধাজ্ঞার কারণে আরও গুরুত্বপূর্ণ চার সদস্যও ছিলেন না এই ম্যাচে। তবে ম্যাচের আগে দলটির জন্য সুসংবাদও ছিল বৈকি। কোচ স্ক্যালোনি যে করোনা নেগেটিভ হয়ে এই ম্যাচ দিয়েই ফিরেছেন আলবিসেলেস্তে ডাগআউটে! 

তার ছাপটা পড়েছিল আর্জেন্টিনার খেলাতেও। গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের ছাড়া খেললেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের কৌশল থেকে সরে আসেনি দলটি। শুরু থেকেই আক্রমণে মনোযোগ ছিল দলটির। দ্বিতীয় মিনিটে লুকাস ওক্যাম্পোস বক্সের বাইরে থেকে চেষ্টা করেছিলেন গোলের, তবে সেটা বেরিয়ে গেছে লক্ষ্যের অনেক বাইরে দিয়ে। 

বলের দখলেও শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল আনহেল ডি মারিয়াদেরই। ফলে প্রথম আক্রমণের জন্য সফরকারী কলম্বিয়াকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ মিনিট পর্যন্ত। তবে লুইস ডিয়াজের শটটা আর্জেন্টাইন রক্ষণ দেয়ালে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় তা। 

চিলির বিপক্ষে ম্যাচে ডি মারিয়ার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দায়িত্বটা পালন করা ডি মারিয়া আজও চলে গিয়েছিলেন গোলের খুব কাছে। বক্সের বাইরে থেকে সেদিনের গোলটার মতোই একটা চেষ্টা করেছিলেন। কলম্বিয়া রক্ষণ, গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যের একটু বাইরে বেরিয়ে যায় সেটা। 

তবে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষাটা খুব বেশি বড় হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। ২৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে মার্কোস আকুনইয়া ক্রস ফেলেছিলেন প্রতিপক্ষ বক্সে। লুকাস ওক্যাম্পোস সেটায় মাথা ছোঁয়াতে চেয়েও পারেননি, তবে তার সে চেষ্টা প্রায় ফাঁকা করে দিয়েছে বক্সে তার পাশেই থাকা স্ট্রাইকার লাওতারোকে। সেখান থেকে তার শট আর গোল।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে এই গোল তার ক্যারিয়ারের ১৯তম। সবকটা এসেছে কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির অধীনে। আর্জেন্টাইন এই কোচের আমলে তার চেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো।

এর মিনিট পাঁচেক পর বক্সের একটু বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছিল দলটি। তবে ডি মারিয়ার আগুনে গতির ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান কলম্বিয়ান গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। 

বিরতির একটু আগে সফরকারীরা দারুণ সুযোগই পেয়েছিল। মিগেল বোরহা একাই পেয়ে বসেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে। তার শট ঠেকান আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক। তবে ফিরতি বলটা বোরহা বাড়ান গোলমুখে থাকা ডিয়াজকে। তার শটটা গোললাইন থেকে ফেরান হেরমান পেজ্জেলা। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পরেও আধিপত্য ধরে রেখেছিল স্ক্যালোনির দল। ৬৪ মিনিটে ডি মারিয়া দূরপাল্লার শটে আবারও পরীক্ষা নেন কলম্বিয়া রক্ষণের। তবে সে চেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস।

এর কিছু পরেই অবশ্য কোচ স্ক্যালোনি তুলে নেন ডি মারিয়াকে। সঙ্গে লাওতারোও মাঠ ছাড়েন বদলি হিসেবে মাঠে আসা পাওলো দিবালাকে জায়গা করে দিয়ে। দিবালার সামনে গোলের সুযোগও এসেছিল। অন্তিম সময়ে দারুণ এক প্রতি আক্রমণে উঠে এসেছিল আর্জেন্টিনা। বদলি হিসেবে নামা নিকো গঞ্জালেস বলটা বাড়িয়েছিলেন তাকে। তবে সেটা গোলে রূপ দিতে ব্যর্থ হন তিনি।

তাতে অবশ্য জিততে সমস্যা হয়নি আর্জেন্টিনার। তুলে নেয় ১-০ গোলের জয়। তাতেই ২০১৯ সালে শুরু হওয়া অপরাজিত যাত্রাটাকে স্ক্যালোনির দল উন্নীত করে ২৯ ম্যাচে।

এই জয়ের ফলে আরও একটা চক্র পূরণ করেছেন স্ক্যালোনি। এর আগ পর্যন্ত কনমেবল অঞ্চলের বাকি আট দলের বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়া হয়েছিল স্ক্যালোনির আর্জেন্টিনার। শুধু এক কলম্বিয়ার বিপক্ষেই জেতা হয়নি।

২০১৮ বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব নিয়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা। এরপর ২০১৯ কোপা আমেরিকায় হেরেই বসেছিল দলটি। গেল জুনে দলটির বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুই বার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। কোপা জয়ের পথেও এই দলটিকে হারাতে পারেননি মেসিরা। সেমিফাইনালে তাদের বিপক্ষে মূল সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল ১-১ গোলে। চতুর্থবারের চেষ্টায় অবশেষে কলম্বিয়ার বিপক্ষে জেতা হলো স্ক্যালোনির দলের। তাতে পূরণ হয়ে গেল কনমেবল অঞ্চলের সব দলকে হারানোর চক্রও। 

এনইউ