একটি সিদ্ধান্ত এয়ারলাইন্সকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখাতে পারে

ধন্যবাদ। দীর্ঘকালীন সময়ের আবেদনকে কর্ণপাত করার জন্য। নীরব কিংবা সরব আন্দোলনের ফসল এয়ারলাইন্সগুলোর সারচার্জ ৭২ শতাংশ থেকে ১৪.২৫ শতাংশে কমিয়ে আনার জন্য।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স তথা বাংলাদেশের আকাশ পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইন্স-এর পাশে থাকার জন্য, দাবির প্রতি সহানুভূতি দেখানোর জন্য। বাংলাদেশি সব এয়ারলাইন্স সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বর্তমান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানায় কৃতজ্ঞতা।
প্রায় ২৯ বছর যাবত বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো সারচার্জ কমানোর অনুরোধ জানিয়ে আসছে। পলিটিকাল, নন-পলিটিকাল কত সরকার পরিবর্তিত হলো, রেগুলেটরি অথরিটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ নীতি নির্ধারকদের কত বিজ্ঞ বিজ্ঞ পরিচালক পরিবর্তিত হলো, বিমান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ক্ষমতাবিহীন সংসদীয় কমিটি পরিবর্তিত হলো কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলোর দাবির প্রতি কাউকে সহানুভূতি দেখাতে দেখিনি।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিমান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও রেগুলেটরি অথরিটির বাস্তবিক চিন্তা-চেতনা থেকে সারচার্জ কমানোর যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন ভবিষ্যতের জন্য বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর বন্ধ হওয়ার মিছিলকে রোধ করবে, এই আশা রাখছি।
ইতিমধ্যে ৮/৯ টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব এয়ারলাইন্স টিকে আছে তাদের ভবিষ্যৎ অনেকটা হুমকির মুখে। বন্ধ হওয়া এয়ারলাইন্সগুলো বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় চলে যেতে হয়েছে কিন্তু বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ৭২ শতাংশ সারচার্জ।
একের পর এক এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধ হয়ে গেল কিন্তু নীতিনির্ধারকদের কাছে কোনো সহায়তা ছাড়াই শত শত কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কিছুদিন পরপর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের পাতায় খবরের শিরোনাম হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স।
বেবিচক বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বিশেষ করে চলমান কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া এয়ারলাইন্স-এর কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একাউন্টসের লেজারকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার হিসাব গুনতেই অনেকে তৃপ্তির হাসি হাসতো। কিন্তু যৌক্তিক সারচার্জ নির্ধারণ করে এয়ারলাইন্সগুলো টিকিয়ে রাখার মন-মানসিকতা দেখিনি রেগুলেটরি অথরিটি তথা মন্ত্রণালয়ের বিগত সময়ের নীতি নির্ধারকদের। অবশেষে সদয় দৃষ্টি পেল এয়ারলাইন্সগুলো।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তথা বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো পরিচালনা করে এমন সব দেশগুলোর সারচার্জ ছিল ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু বাংলাদেশে যেন অমোচনীয় কালি দিয়ে স্বর্ণের অক্ষর দিয়ে লিখে রাখা হয়েছে বার্ষিক ৭২ শতাংশই হবে সারচার্জ!
শেষ পর্যন্ত যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ১৪.২৫ শতাংশ সারচার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে। এয়ারলাইন্সগুলো টিকিয়ে রাখার পথ সুগম হয়েছে।
অনেক স্বপ্ন নিয়ে জিএমজি, ইউনাইটেড, রিজেন্ট, বেস্ট এয়ার-এর মতো এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশে আকাশ পরিবহনে ব্যবসা করার ডানা মেলেছিল কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন সময়ে বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার থাবা এভিয়েশন সেক্টরকে করে তুলেছে অস্থির, অস্বাভাবিক, যার ফলশ্রুতিতে এয়ারলাইন্সগুলো পড়েছে তারল্য সংকটে।
সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতেই দিশেহারা। তার ওপর এয়ারলাইন্সগুলো অতিরিক্ত সারচার্জের ভারে পিষ্ট হচ্ছিল। সারচার্জের খরচ কমানোর ফলে এয়ারলাইন্সগুলো পিষ্ট অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ পাবে।
এভিয়েশন সেক্টরের সব উদ্যোক্তা, এভিয়েশন কর্মী প্রত্যেকেই চায় এয়ারলাইন্সগুলো টিকে থাকুক, এগিয়ে যাক সমহিমায়। সেবা গ্রহণ করুক এদেশের ১৮ কোটি মানুষ। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক।
মো. কামরুল ইসলাম : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকা পোস্ট
