চবির ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয়, রাবিতে মোবাইলসহ আটক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সি ইউনিট ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে মোবাইলে এআই (ডিপশেক) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বন করার সময় এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান অনুষদ) তৃতীয় হয়েছিলেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলাকালে রাবির স্যার জগদ্বিশচন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে পরীক্ষা চলাকালে এ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিক্ষার্থীর নাম দিব্য জ্যোতি সাহা। বাবার নাম সাহা চঞ্চল কুমার। তার বাড়ি খুলনায়। তিনি ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন, এ ছাড়া, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী এর আগে, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছিলেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় হয়ে তিনি তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লেখেন ‘পুরাই আনএক্সপেকটেড, চট্টগ্রাম ঘুরতে গিয়ে তৃতীয় হওয়ার যে ব্যাপারটা’ এই লেখার স্কিনশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে, চবির পরীক্ষার হলেও কি তিন ফোন ব্যবহার করেছেন?
এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, যেহেতু সে রাবির পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে, আবার চবিতে তৃতীয় হয়েছে তার বিষয়ে পরীক্ষা কমিটি হয়তো সিদ্ধান্ত নেবে। এ ছাড়া, বিষয়টি ওই ইউনিটের ডিনরা দেখবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবর রহমান বলেন, আমাদের পরীক্ষা খুব সুন্দরভাবে শুরু হয়েছিলো কিন্তু হঠাৎ করে আমরা জানতে পারি প্রথম শিফটে একজন শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধরা পড়েছে। এরপর দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা শুরু হয় এবং আবার আরেকজনকে মোবাইলসহ ধরা হয়। এখন তার নামে মামলা করা হবে এবং পরবর্তীতে যনো কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের কাজ না করে সেজন্য আমি নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করবো।
উল্লেখ্য, রাবি 'সি' ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কেন্দ্রে। আরেকজনকে ধরা হয়েছে যার সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি এবং বাকি দুজন রাবি ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
জুবায়ের জিসান/এএমকে