‘সামনে এগিয়ে যেতে সবার জন্য কালচারাল স্পেস ওপেন করে দেওয়া জরুরি’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো সবার জন্য কালচারাল স্পেস উন্মুক্ত করা। একটি রিপাবলিকে ভিন্ন মত ও ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুকী বলেন, আমাদের কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা রয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সফলতাও আছে। আমরা কী করতে চেয়েছি বা কতটা পেরেছি— তা ইতিহাসই একদিন বিচার করবে। সাংস্কৃতিকভাবে আমরা যে প্রচেষ্টাটা করেছি, তা হলো পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন না করে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসা। কে বাঙালি, কে চাকমা, কে মারমা, কে গারো এই বিভাজন নয়, বরং সবাইকে একসঙ্গে দেখতে চেয়েছি।
তিনি বলেন, কোনো জাতির সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ বুঝতে হলে পেছনের পথের দিকে তাকাতে হয়। আমরা কোথা থেকে এসেছি, কেন চব্বিশে এমন একটি বড় গণঅভ্যুত্থানের মুখোমুখি হলাম— এসব বিষয় গভীরভাবে বোঝা জরুরি। তা না হলে সামনে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, সেটাও স্পষ্ট হবে না।
বাংলাদেশের ইতিহাসে নানান ধরনের ন্যারেটিভ রয়েছে উল্লেখ করে ফারুকী বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে আমি একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখি। এটি অবশ্যই একটি রাজনৈতিক অভিব্যক্তি ছিল, কিন্তু এর গভীরে যে ক্ষোভ ছিল, তা ছিল সাংস্কৃতিক ক্ষোভ। এই ক্ষোভকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে আমরা ভবিষ্যতের পথও খুঁজে পাব না।
তিনি বলেন, নিজের দেশে তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে না বাঁচার আকাঙ্ক্ষাই ছিল চব্বিশের আন্দোলনের মূল শক্তি। কোনো জাতিকে দীর্ঘদিন পরাধীন করে রাখা যায় না। যত ন্যারেটিভই তৈরি করা হোক না কেন—অতীতেও তা সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ দেশ ও জাতির জন্য আত্মত্যাগকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। একইসঙ্গে দেশ, স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত, পতাকা উত্তোলন, একুশের গান ও উৎসব সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় কবিতা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এসএআর/জেডএস