ইউল্যাবে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ১২তম আসর শুরু

ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের আউটরিচ প্রোগ্রাম ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ (ডিআইএমএফএফ ২০২৬)-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের ১২তম আসরটি শুরু হয়।
স্টার সিনেপ্লেক্সের সহযোগিতায় এবং ইনফিনিক্স মোবাইল বাংলাদেশের সমর্থনে আয়োজিত এই উৎসবটি মোবাইল চলচ্চিত্র নির্মাণ ও উদ্ভাবনী সিনেমাটিক গল্প বলার চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। উৎসবের প্রথম দিনে দুটি প্রদর্শনী সেশনের মাধ্যমে নির্বাচিত ২৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ১৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
চলতি বছরের ডিআইএমএফএফ-এ ২৪টি দেশ থেকে মোট ১৩১টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উৎসবের ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি এবং বিশ্বব্যাপী মোবাইল সিনেমার বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার প্রতিফলন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় ইউল্যাবের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান এবং ডিআইএমএফএফ-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. দিন মো. সুমন রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। তার বক্তব্যে তিনি মোবাইল চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্রমবিকাশমান ভূমিকা এবং নবীন নির্মাতাদের জন্য একটি বৈশ্বিক মঞ্চ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে জুরি বোর্ডের সদস্য লিওন ডেসক্লোজোরের একটি ভিডিও বার্তা উপস্থাপন করা হয়। বার্তায় তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের মানের প্রশংসা করেন এবং ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এর সাফল্যের জন্য শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানটি আরও সমৃদ্ধ হয় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ও প্রযোজক তানিম নূরের বক্তব্যের মাধ্যমে। ‘টেলিভিশন’ ও ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’র মতো বহুল প্রশংসিত কাজের এই নির্মাতা গল্প বলার শক্তি, সৃজনশীল সততা এবং চলচ্চিত্র কীভাবে মানুষের চিন্তা ও সংলাপে ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিন তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
উদ্বোধনী দিনে প্রথম পর্বের ফিল্ম স্ক্রিনিং সেশনে বাছাইকৃত মোবাইল চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। সেশনটি ডিআইএমএফএফ-এর সহ-উপদেষ্টা জনাব পন্থা রহমানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এ “বাংলাদেশে চলচ্চিত্র বিতরণ” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্পের চ্যালেঞ্জ, পরিবর্তনশীল প্ল্যাটফর্ম এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্যানেলে অংশগ্রহণ করেন স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকা নওশিন নাওয়ার, ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, স্টার সিনেপ্লেক্সের মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন হিমেল এবং বঙ্গোর কনটেন্ট প্রধান মো. আলী হায়দার। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন রামজান আলী ইমন।
সন্ধ্যা পর্বের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এর উপদেষ্টা সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিন। এরপর ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টর জাহরা নুসরাত ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এর পথচলা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী দিনের সমাপ্তি ঘটে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট অভিনেতা, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারিক আনাম খানের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে। তিনি তার থিয়েটার জীবনের স্মৃতি চারণ করে বলেন, সেই সময় সিনেমা নির্দিষ্ট ডিভাইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গল্পকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো। ডিআইএমএফএফ-এ প্রদর্শিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে তিনি সেই একই চেতনার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলি কবিতার মতো, কারণ এগুলি সীমিত সময়ের মধ্যে গভীর অর্থ প্রকাশ করে। উপদেষ্টা সৈয়দা সাদিয়া মেহজাবিন তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পরিশেষে ডিআইএমএফএফ-এর প্রশিক্ষক মীর ওয়াদুদ ইসলামের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
ডিআইএমএফএফ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারস্থ স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হবে।
ফেস্টিভ্যালের দ্বিতীয় দিনের টিকিট লিংক: https://bit.ly/dimff26day2 বিস্তারিত তথ্যের জন্য ফেসবুক পেজ: https://www.facebook.com/DIMFF.ULAB
এমএসএ
