ড্যাফোডিল গ্রুপের পরিচালক হলেন সামিহা খান

ড্যাফোডিল গ্রুপের পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হলেন সামিহা খান। গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার সোবহানবাগে ড্যাফোডিল প্লাজায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে তার অসাধারণ পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং বহুমুখী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই শীর্ষ পদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সামিহা খানের হাতে তিনটি বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি তুলে দেওয়া হয়।
ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডক্টর মুহাম্মদ নুরুজ্জামান তার হাতে পরিচালক পদের নিয়োগপত্র তুলে দেন। এ ছাড়া ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ডক্টর এম আর কবির তার নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার জন্য একটি প্রশংসাপত্র এবং প্রতিষ্ঠান গঠনের দর্শনে অবদানের জন্য আরো একটি প্রশংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
২০২১ সালে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ড্যাফোডিলে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ড্যাফোডিলে যোগদানের পূর্বে তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
সামিহা খান ২০১৪ সালের জুন-জুলাই সময়ে দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউন-এ ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন। ২০১৬ সালে নোবেল বিজয়ী, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত ‘ইউনূস সেন্টার’-এ ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও নীতি বিষয়ক কাজে যুক্ত হন।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন সিটিজেনস ইউকে-তে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটিতে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কোর্স অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেন।
২০২০ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কীন ইউসিএল-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ইয়ুথ পলিসি ফোরাম-এর অধীনে এনভায়রনমেন্ট পলিসি নেটওয়ার্ক-এর কো-অর্ডিনেটর ও নেটওয়ার্ক লিড হিসেবে কাজ করে তরুণদের নীতি ও পরিবেশভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
গত পাঁচ বছরে ড্যাফোডিলে তিনি ফিউচার ডিআইইউ, ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশনস, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স, এইচআরডিআই, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ড্যাফোডিল কম্পিউটারস লিমিটেডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তাঁর নেতৃত্বে প্রবর্তিত ‘স্ট্রাকচার্ড এইচআর সফটওয়্যার সিস্টেম’ বর্তমানে গ্রুপের স্বচ্ছ ও আধুনিক কর্মী মূল্যায়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সামিহা খান যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
তিনি বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনি ড্যাফোডিল গ্রুপের পরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি পাবলিক লিস্টেড প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কম্পিউটারস পিএলসি-এর পরিচালক হিসেবেও তাঁর দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।
ড্যাফোডিল গ্রুপ মনে করে, এই নিয়োগ মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রতিষ্ঠানের সাকসেশন প্ল্যানিং নীতিকে আরও সুসংহত করবে। অনুষ্ঠানটিতে ড্যাফোডিল গ্রুপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএসএ
