বাংলা একাডেমিতে কবি আল মাহমুদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কবি আল মাহমুদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বিপ্লব বসন্তে আল মাহমুদ’ শীর্ষক স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় বাংলা একাডেমিতে ‘কালের কলস’ নামের একটি সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কবি সংঘের সভাপতি কবি শাহীন রেজা, চলচ্চিত্রকার পার্থিব রাশেদ, লেখক ও গবেষক শামস আরেফিনসহ কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কবি সংঘের সভাপতি কবি শাহীন রেজা বলেন, আমাদের দেশে রাজনৈতিকভাবে আল মাহমুদকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় সেটি হয়নি। কলকাতায় আল মাহমুদ উপস্থিত না থাকলেও সেখানে তাকে পাঠ করা হয়েছে, তার কবিতা চর্চা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কবি আল মাহমুদের শক্তি ছিল তার সততা ও ঈমান। কবিতা আমরা লিখতে পারি না, কবিতা নাজিল হয়। আল মাহমুদ যা লিখতেন, যতটুকু লিখতেন তাই কবিতা হয়ে যেত। আল মাহমুদ যা লিখেছেন তা আছে, তা থাকবে, তা টিকে থাকবে।
বিজ্ঞাপন
বাংলা একাডেমিতে ‘আল মাহমুদ অডিটোরিয়াম’ করার দাবি তিনি বলেন, বাংলা একাডেমিতে শামসুর রাহমান অডিটোরিয়াম হতে পারলে আল মাহমুদ অডিটোরিয়াম হতে পারবে না কেন? আমি চাই, বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদ অডিটোরিয়াম হোক।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবুল কাসেম শেখ বলেন, আল মাহমুদের সাহিত্যকর্ম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি সুইজারল্যান্ডের কালচারাল সেন্টারে আল মাহমুদের লেখা দেখেছি। তিনি বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, দেশকে ধারণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আল মাহমুদের কবিতা শুনলেই হৃদয়ে জাগরণ তৈরি হয়। মনে হয় তার লেখা আকাশ থেকে আসছে, বাতাস থেকে আসছে।
বিজ্ঞাপন
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আল মাহমুদকে ধারণ করুন, তাকে ছড়িয়ে দিন।’
অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রকার পার্থিব রাশেদ বলেন, বাংলা সাহিত্যে আল মাহমুদের মতো কবি আর কেউ নেই, যিনি একই সঙ্গে কবিতায় বামপন্থা, সাম্য, লোকজ বিষয় এনেছেন এবং ইসলামের নান্দনিক সৌন্দর্যও তুলে ধরেছেন।
পার্থিব রাশেদ আরও বলেন, আল মাহমুদকে অনেকে ত্যাগ করেছে, কিন্তু আল মাহমুদ তাদের কখনো ত্যাগ করেননি। যারা কবিকে ত্যাগ করার চেষ্টা করেছেন, কবি তাদের আরও কাছে টেনে নিতে চেয়েছেন।
এছাড়াও স্মরণানুষ্ঠানে কবি আল মাহমুদের কবিতা আবৃত্তি করেন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী মাহবুব মুকুল।
এসএআর/জেডএস