জাবির হলে পানিতে ২২০ গুণ আয়রন! স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ২ হাজার শিক্ষার্থী

ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যসম্মত পানির জন্য পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। তবে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলের পানিতে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার প্রায় ২২০ গুণ বেশি আয়রন পাওয়া গেছে। এতে করে প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রে পানির নমুনা পরীক্ষা করায়।
পরীক্ষায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান অনুযায়ী পানিতে আয়রনের সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা ০.৩ পিপিএম হলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে আয়রনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৬৬.৫ পিপিএম।
অন্যদিকে, তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য মীর মশাররফ হোসেন হলের পানিও পরীক্ষা করা হলে সেখানে ৩ পিপিএম আয়রন শনাক্ত হয় যা নির্ধারিত মানের চেয়ে কিছুটা বেশি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও নবাব সলিমুল্লাহ হলের পানির পাম্প একই হওয়ায় দুটি হলের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী একই উৎসের পানি ব্যবহার করছেন।
ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্রের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার খায়রুল ইসলাম বলেন, নমুনা বিশ্লেষণে আমরা দেখেছি, কাজী নজরুল ইসলাম হলের পানিতে আয়রনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। দীর্ঘমেয়াদে এ পানি ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীরা জানান, বোতলে পানি রাখার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা লালচে হয়ে যাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মহিউদ্দীন আহমেদ সৌরভ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি ট্যাপের পানি পান করছি। এখন পরীক্ষায় অতিরিক্ত আয়রনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক মাহফুজা মোবরক বলেন, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত আয়রনযুক্ত পানি পান করলে ‘হেমোক্রোমাটোসিস’ ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে লিভার, হার্ট ও অগ্ন্যাশয়ে আয়রন জমে অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি লিভারে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয়ে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিসের আশঙ্কা থাকে। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, ত্বক ও চুলের জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা নমুনা পরীক্ষা করিয়েছি। ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ বলেন, প্রাথমিক ফলাফল উদ্বেগজনক। অন্যান্য হলের পানিতেও একই সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে নতুন করে ছয়টি হলের পানি পরীক্ষা ও পাম্প স্থানান্তরসহ বিকল্প সমাধান বিবেচনা করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এএমকে