জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মারধরের সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত তারিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৪৪তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আব্দুর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত তারিকুল ভুক্তভোগী ছাত্রীর হলের সামনে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ‘শেষ কথা’ বলার অজুহাতে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে সাভারের ইসলামনগর এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ছাত্রীর মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয় এবং হাতে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ৯৯৯- এ কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চাইলে আশুলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্র ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আশুলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, ৯৯৯- এ কলের প্রেক্ষিতে আমরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এজাহার দিলে বুধবার আমরা মামলা গ্রহণ করি। প্রাথমিক তদন্তে আমরা ধর্ষণ ও মারধরের সত্যতা পেয়েছি এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের বিশেষ তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর শিক্ষক ও সহপাঠীরা অভিযুক্ত তারিকুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরএআর