বান্দরবানে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে অর্কিড ফুল চাষ

Dhaka Post Desk

রিজভী রাহাত, বান্দরবান

২৩ মে ২০২২, ০৩:১৬ পিএম


বান্দরবানের পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে অর্কিড চাষের বিপুল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির অর্কিড চাষ করছেন জেলার চাষিরা। দেশের আবহাওয়া অর্কিড চাষের উপযোগী হওয়ায় এতে সফলতাও মিলছে বেশ।

পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি ছাড়াও সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলে অর্কিড পাওয়া যায়। তবে পাহাড়ে অপরিকল্পিত জুমচাষ, বনাঞ্চল উজাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের কারণে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান অর্কিড।

বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা এলাকার স্কুলশিক্ষক আমির হোসেন নয়ন। শখের বসে বিভিন্ন ধরনের অর্কিড সংগ্রহ করে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার সংগ্রহ। বর্তমানে নানা জাতের অর্কিড শোভা পাচ্ছে নয়নের বাগানে।

অর্কিড-চাষি শিক্ষক আমির হোসেন নয়ন ঢাকা পোস্টকে বলেন, জুমচাষ, বনাঞ্চল উজাড়সহ পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে হারিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান অর্কিড। পাহাড়ের মানুষেরা অর্কিড সম্পর্কে সচেতন নয়, পরগাছা আর আগাছা ভেবে মূল্যবান অর্কিডগুলো নষ্ট করে ফেলছে। অর্কিডের প্রতি আমার দুর্বলতা রয়েছে। তাই কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বিভিন্ন স্থান থেকে অর্কিড সংগ্রহ করে নিয়ে আসতাম। পরে বাড়ির আঙিনায় টবে ও গাছের ঢালে লাগিয়ে পরিচর্যা করতাম।

আমার উৎসাহ দেখে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান অর্কিড সংরক্ষণে আমায় সহযোগিতা করেছে। মূলত তাদের সহযোগিতায় ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এ দুই বছরে অর্কিড বাগানটি দাঁড়িয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা পেলে পাহাড়ে অর্কিড চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

আমির হোসনের স্ত্রী মনোয়ারা রুবি বলেন, মাত্র ছয় শতক জমিতে স্বামীর প্রচেষ্টায় ছোট্ট পরিসরে অর্কিড বাগানটি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। স্বামী সরকারি স্কুলের শিক্ষকতা করায় শুক্রবার ছাড়া সময় দিতে পারেন না। তাকে সহযোগিতা করতে অর্কিড বাগানের প্রতি আমারও ভালো লাগা জন্মায়। নিয়মিত পানি দেওয়া ও স্প্রে করাসহ সব রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আমিই করি। বাগানটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কর্মচারীও রয়েছে।

চাহিদা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পাহাড়ে অর্কিড চাষের সম্ভাবনাও বেড়েছে। এখন দেশেও অর্কিড ফুল গাছ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনলাইনে নয়নের বাগানের অর্কিডগাছের ছবি ও ফুল দেখে পাহাড়ের অর্কিড বাগান থেকে অর্কিড সংগ্রহে যোগাযোগ করছেন বিদেশি চাষিরাও।

নয়ন বলেন, আমি নিজেও মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম থেকে অনলাইনে যোগাযোগ করে অর্কিডগাছ সংগ্রহ করেছি। দেশের মধ্যেও বাড়ির ছাদে, বারান্দায় ও ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ভালোবাসা, আভিজাত্য এবং সৌন্দর্যের প্রতীক অর্কিড ফুল গাছ সংরক্ষণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে অনেকে।

জাতভেদে বছরজুড়েই অর্কিডের ফুল ফোটে। তবে মার্চ ও মে মাসে দেশীয় অর্কিডের ফুল ফোটে বেশি। নয়নের অর্কিড বাগান দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও লোকজন আসছেন। ফুল ও গাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারা।

ছাদবাগানী ফাতেমা আলম এসেছেন বাগান দেখতে। তিনি বলেন, আকর্ষণীয় রং, বিভিন্ন ধরনের গড়ন, ঔষধি গুণাগুণ, সুগন্ধি, দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল, এ বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে অর্কিডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বাংলাদেশেও। আমাদের ছাদবাগানেও বিভিন্ন ধরনের ফল-ফুলের গাছ রয়েছে। কিন্তু অর্কিডের সংখ্যাটা খুবই কম। ফেসবুক পেজে নয়ন ভাইয়ের অর্কিড বাগানটির খবর পেয়ে দেখতে এলাম। ছোট্ট পরিসরে হলেও সংরক্ষণাগার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তাই নিজেদের বাগানের জন্য কিছু অর্কিডগাছ সংগ্রহ করলাম। অর্কিড চাষ সম্পর্কে কিছুটা ধারণাও নিলাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, অর্কিড চাষে নানা পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। বর্তমান বিশ্বে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অর্কিড বাণিজ্য হয়। যার মধ্যে সিংহভাগ দখল করে আছে থাইল্যান্ড। এ জন্য থাইল্যান্ডকে অর্কিডের রানি বলা হয়। জাতভেদে সারা বছরই অর্কিডের ফুল ফোটে। তবে মার্চ ও মে মাসে দেশীয় অর্কিড সর্বাধিক পাওয়া যায়। আবার কিছু অর্কিড বছরে দু-তিনবার ফোটে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি গাছে জাতভেদে দু-চারটি স্টিক পাওয়া যায়। দেশের মধ্যে পাহাড়ে অর্কিড চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক নয়নের মতো আরও অনেকে এগিয়ে এসেছে অর্কিড চাষে। বাণি0জ্যিকভাবে অর্কিড চাষ করা গেলে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থান তৈরি এবং বিদেশে অর্কিড রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করা সম্ভব হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এনএ

Link copied