বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের পর্যটন খাত

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, সিলেট

২৪ মে ২০২২, ০৮:৫৮ পিএম


বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের পর্যটন খাত

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে সিলেটের সবকটি অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় সিলেট অঞ্চলের যে কয়েকটি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পর্যটন খাত। বন্যার কারণে এসব এলাকার পর্যটনে ভাটা পড়েছে। পর্যটন খাতে সরাসরি সম্পৃক্ত এসব অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসন বা উপজেলা প্রশাসন থেকে এখনো তাদেরকে কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। 

বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল এবং সাদা পাথর এলাকা। সপ্তাহ খানেক আগেও যেখানে প্রতিদিন এসব এলাকায় লক্ষাধিক মানুষ হাজির হতেন, সেখানে এখন পর্যটকের আনাগোনা নেই বললেই চলে।

জাফলংয়ের মামার দোকানের ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন গড়ে জাফলংয়ে ৫০ হাজারেরও অধিক লোকজন এসেছিল। এ সময় আমার মতো যারা ব্যবসায়ী আছেন সবাই ভালো ব্যবসা করেছেন। বন্যার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে এ সকল অঞ্চলে পর্যটকের আগমন নেই বললেই চলে। তাই আমরা অলস সময় পার করছি।

dhakapost

আকস্মিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের পর্যটন খাত নিয়ে ট্রাভেলার্স অফ গ্রেটার সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা শেখ রাফি ঢাকা পোস্টকে বলেন, চলমান এই বন্যার কারণে আমাদের পর্যটন খাতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। গত দুই বছর থেকে এমনিতেই করোনার কারণে আমাদের সিলেট অঞ্চলের পর্যটন খাত অনেক পিছিয়ে গেছে। তার মধ্যে আকস্মিক এ বন্যা আমাদেরকে আরও পেছনে নিয়ে গেল। বন্যার কারণে আমাদের শিডিউলের অনেকগুলো টুর প্যাকেজ ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। ঈদ পরবর্তী সময়ে সিলেট অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল। সিলেটের বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্টরা বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। কিন্তু বন্যার কারণে যেন সব কিছু থমকে গেছে। 

আকস্মিক বন্যার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন পর্যটনের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষ। পরিবহন শ্রমিক, নৌকা শ্রমিক, ট্যুরিস্ট গাইড, হোটেল মালিকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ এখন পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

dhakapost

সিলেট ট্যুরিজম ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবীর লিটন ঢাকা পোস্টকে জানান, বন্যার কারণে আমাদের সিলেটের প্রধান পর্যটনস্পটগুলো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় সরাসরি পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সব এলাকায় পর্যটনের সঙ্গে জড়িত  ক্ষতিগ্রস্তদের কোনো তালিকা করা হয়নি কিংবা তাদেরকে কোনো ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। পর্যটনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাই। 

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ার সাদাত ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই মুহূর্তে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করাটাই হচ্ছে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নেতৃত্বে আমাদের একটি বিশাল টিম বন্যাকবলিত অঞ্চলে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলের মানুষের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আর সিলেট অঞ্চল যেহেতু পর্যটনখাতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় স্থান, সেহেতু এর সঙ্গে জড়িত ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারটি আমরা কার্য তালিকায় রাখছি।

মাসুদ আহমদ রনি/আরএআর

Link copied