বাসর রাতের ঘটনার পর থেকেই বাবার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন জাহাঙ্গীর

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

০২ জুন ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম


বাসর রাতের ঘটনার পর থেকেই বাবার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন জাহাঙ্গীর

যৌন ক্ষমতা হারিয়ে বাবাকে খুন করেন জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘ চার বছরের তদন্তে ক্লুলেস এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার (২ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সিআইডির সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

ঘটনাটি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শিয়াল খাওয়া অচিনতলা গ্রামের। জাহাঙ্গীর আলমের বাবার নাম গোলাম হোসেন (৪০)।

জাহাঙ্গীরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইসমাইল পিপিএম বলেন, ২০০৯ সালের দিকে কবিরাজি চিকিৎসায় জাহাঙ্গীর আলমের যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেন তার বাবা। পরের বছর বিয়ে করলে বাসর ঘরে জাহাঙ্গীর বুঝতে পারেন তার যৌন ক্ষমতা নেই। 

সেই থেকে স্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে তার মনোমালিন্য শুরু হয়। দীর্ঘ আট বছরের সংসার জীবনে অক্ষমতা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কলহ, বিরোধ লেগে থাকলে বাবার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে জাহাঙ্গীরের। এক পর্যায়ে বাবাকে হত্যা করলে যৌন ক্ষমতা ফিরে পাবেন মনে করে পরিকল্পনা করতে থাকেন।

ঘটনার দিন স্ত্রী ঢাকায় থাকায় এবং হালকা বৃষ্টিতে রান্না ঘর থেকে দা নিয়ে বাবা গোলাম হোসেনকে কুপিয়ে আহত করেন ছেলে জাহাঙ্গীর। এরপর বাবার দেহ বাড়ির পাশে লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু এমন সময় বাবার গোঙানিতে বড় ভাই ও ভাবি টের পেয়ে যান। পরক্ষণেই সেখানেই তার বাবার মৃত্যু হয়। 

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর নিহতের বড় ছেলের দায়ের করা মামলায় তদন্ত কাজ শুরু করলেও কোনো রহস্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ চার বছরে ছয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্লুলেস মামলাটির রহস্য উদঘাটন করতে পারেননি।

চলতি বছরের মার্চে ৭ম তদন্ত কারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন সিআইডির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জায়েদুল ইসলাম জাহিদ। দায়িত্ব নিয়ে এ মামলার সন্দিগ্ধ আসামি গোলাম হোসেনের দ্বিতীয় ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে গত ১০ এপ্রিল আটক করে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে সুকৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে তার বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।‌ এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন খুনি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নিয়াজ আহমেদ সিপন/এমএএস

 

Link copied