পদ্মা সেতুর নিচে নজর কাড়ছে পূজামণ্ডপ

Dhaka Post Desk

ফরহাদুজ্জামান ফারুক, রংপুর

০২ অক্টোবর ২০২২, ০৯:৪১ পিএম


অডিও শুনুন

দুর্গোৎসবে মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। সবচেয়ে বড় এই উৎসব ঘিরে নানা রঙে সেজেছে পূজামণ্ডপগুলো। বৈচিত্র্যময় সাজসজ্জা আর দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা আকৃষ্ট করছে ভক্তদের। এর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম সজ্জা সহজেই নজর কাড়ছে সবার। আর তা যদি হয় গৌরবের পদ্মা সেতু ঘিরে, তাহলে তো বাড়তি আকর্ষণ থাকবেই। এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে রংপুর নগরের একটি পূজামণ্ডপে।

রোববার (০২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রংপুর নগরের পালপাড়ায় উত্তর মুলাটোল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পদ্মা সেতুর আদলে নির্মিত পূজামণ্ডপে দেখা গেছে অন্য রকম অলংকরণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করে পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি করা হয়েছে পূজামণ্ডপ। সেখানে ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গৌরবের স্থাপনা পদ্মা সেতু। আর সেই পদ্মা সেতুর আদলে গড়া রংপুরের এ পূজামণ্ডপটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রাতের আলো ঝলমলে বিদ্যুতের আলোয় স্বপ্নের পদ্মা সেতুকে সত্যিকার সেতুর মতো মনে হচ্ছে। দূর থেকে হঠাৎ করে চোখে পড়লে পলক ফেলানো দায়। সত্যিকারের পদ্মা সেতুটি যুক্ত করেছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলাসহ ২১ জেলার মানুষকে। আর দুর্গোৎসব ঘিরে পদ্মা সেতুর আদলে রংপুরে নির্মিত এ পূজামণ্ডপটি মন কেড়েছে করেছে ভক্তদের। রাতে আলোকসজ্জায় মণ্ডপগুলোর সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।

রংপুর থেকে বহু দূরে থাকা পদ্মা সেতু দেখার দূরত্ব কমিয়েছে এই পূজামণ্ডপটি। সেখানে এই দুর্গোৎসবে বাজছে ঢাক, কাঁসর ঘণ্টা ও শাঁখের ধ্বনি। পদ্মা সেতুর আদলে সাজানো পূজামণ্ডপ ঘিরে ভক্তদের ভিড় বেশি দেখা গেছে। অনেকেই মণ্ডপে সপরিবার এসে দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন।

dhakapost

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প হলেও পূজামণ্ডপে অনেকটা সহজেই দাঁড়িয়ে আছে এই পদ্মা সেতুটি। কারণ এটি পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হয়নি। পদ্মা সেতুময় এই পূজামণ্ডপটি রংপুর মহানগরীর পালপাড়ায় স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে সেতুর নিচে পানির স্রোত না থাকলেও আছে মানুষের স্রোত। পদ্মা সেতুর অংশ বিশেষ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুতে মাত্র চারটি স্প্যান রয়েছে। দিনের বেলা যেমন তেমন মনে হলেও রাতের ঝলকানিতে অন্যরকম আবহ তৈরি করছে পদ্মা সেতুর আদলে গড়া এ পূজামণ্ডপটি।

প্রতি বছর একটু ভিন্ন আঙ্গিকে নিত্যনতুন চিন্তাধারা তুলে ধরে পালপাড়ায় পূর্জা উদযাপন করে আসছে উজ্জ্বল সমিতি। এবার পদ্মা সেতুর আদলে পূজামণ্ডপ তৈরি প্রসঙ্গে আয়োজকরা জানান, বিশ্ব দরবারে পদ্মা সেতু বাংলাদেশকে অন্যভাবে গৌরবান্বিত করেছে। এই সেতু বাংলাদেশের মানুষের স্বনির্ভরতার প্রতীক এবং সাহসিকতার প্রতিচ্ছবি।

দেশি-বিদেশি বহু ষড়যন্ত্রের পরও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং আত্মবিশ্বাসের কারণে দেশের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। এ কারণে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করে পদ্মা সেতুর আদলে পূজামণ্ডপটি সাজিয়েছেন তারা।

উজ্জ্বল সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার রায় সুমন বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবার পদ্মা সেতুর আদলে এই পূজামণ্ডপটি নির্মাণ করেছি। এটি দর্শনার্থীসহ ভক্তদের ভালো লাগবে। এই মণ্ডপটি নির্মাণে দেড় লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দর্শনার্থীরা বলছেন, আলোকসজ্জা এমনভাবে করা হয়েছে, পূজামণ্ডপটি রাতে দেখলে সত্যিকারের পদ্মা সেতুর মতো দেখাচ্ছে। এটি রংপুরের ব্যতিক্রম পূজামণ্ডপ এবং আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই পূজামণ্ডপ ঘিরে।

এবার রংপুর জেলায় ৯৩৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে মহানগরে রয়েছে ১৫৮টি মণ্ডপ। যা গত বছরের চেয়ে দুটি বেশি। এ বছর আকর্ষণ হিসেবে নগরীর পালপাড়া পূজামণ্ডপটি পদ্মা সেতুর আদলে সজ্জিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রংপুর মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ।

এদিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন সম্পন্ন করতে প্রতিটি মণ্ডপে শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি কাজ করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে সবগুলো পূজামণ্ডপ কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা। যে কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা অন্য কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

রংপুর মহানগর দুর্গা উৎসব উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস ঘোষ বলেন, এবারের পূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি আনসার, কমিউনিটি পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া পুলিশসহ সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার (৩ অক্টোবর) মহা অষ্টমী। এর পরদিন ৪ অক্টোবর মহানবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার (৫ অক্টোবর) মহাদশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরএআর

Link copied