হামলাকারীদের শাস্তি চেয়ে কাঁদলেন ছাত্রলীগ নেতা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া

২৪ নভেম্বর ২০২২, ০৬:২৯ পিএম


হামলাকারীদের শাস্তি চেয়ে কাঁদলেন ছাত্রলীগ নেতা

আধিপত্য বিস্তার ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগর সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোড এলাকায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ির পাশে তার খালার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের উপস্থিতি তাকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা করেছেন ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ ও তার খালা। শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে কাঁদতে কাঁদতে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে মূলত বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রসস্ত্র, লাঠিসোটা, রড, ছুরিসহ হামলা করে গুরুতর আহত করেছে। আল্লাহ রক্ষা না করলে আমাকে সেদিনই তারা হত্যা করে ফেলতো। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছি। প্রতিপক্ষের লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে আমাকে ও আমার সমর্থকদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। এখনো আমার সমর্থকরা নিরাপদ না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও বিচার চাই। 

তিনি বলেন, হামলার ঘটনার আগে বেশ কিছুদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। কয়েকদিন আগে কুষ্টিয়ায় এসেছি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ অজয় সুরেকার অফিসে দেখা করতে যাই। সেখানে কয়েকজন আমাকে রেকি করছিল। সেখানে থেকে কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে দেখা করি। এরপর আমি আমার খালার বাসায় যাই। সেখান গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে আমার ওপর হামলা করে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা খালার বাসায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট চালায়। তাদের মারপিট করে। আমার কী দোষ? আমার কী অপরাধ? আমি জামায়াত-ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি এটা কি আমার অপরাধ? তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেছে। দল ক্ষমতায় থাকতেও আমি হামলার শিকার হলাম। আমি আমার নেতা হানিফ ভাইয়ের কাছে বিচার দিয়েছি। 

চ্যালেঞ্জ আরও বলেন, কমিটি নিয়ে নোংরামি চলছে। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা আমাকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করতে চায়। হত্যার উদ্দ্যেশ্যেই সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছে। তারা বলেছে, তোর কোনো বাপ তোকে বাঁচাতে পারবে না। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণে সম্পাদক আজগর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু ও অজয় সুরেকা বাপ তোকে বাঁচাতে পারবে না। 

জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান বলেন, সাধারণ সম্পাদক চ্যালেঞ্জের জনপ্রিয়তা ও সুশোভিত রাজনীতিতে হিংসায় পড়ে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি চাই। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে আমরা দৌলতপুর উপজেলা ছাত্রলীগ অনশন-ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর বলেন, এটা একটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। গুটি কয়েক নেতা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য প্রকাশ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

রাজু আহমেদ/আরএআর

Link copied