অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন দিনমজুর মমতাজ

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী

০৯ মে ২০২১, ১০:১৯ পিএম


অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন দিনমজুর মমতাজ

পরিবারের সঙ্গে দিনমজুর মমতাজ আলী

কালবৈশাখী ঝড় হানা দিয়েছিল পঞ্চাশোর্ধ্ব অসহায় দিনমজুর মমতাজ আলীর একচালা ঘরে। তীব্র বাতাসে উড়ে গিয়েছিল ঘরের চালা। ভিটেমাটি না থাকা মমতাজ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে স্ত্রীসহ দুই সন্তান নিয়ে দিনরাত কেটেছে খোলা আকাশের নিচে। উপজেলা প্রশাসন ও এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এবার পরিবার নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে মমতাজ আলীর।

গত ২৪ এপ্রিল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকাপোস্ট.কমে ‘ঝড়ে উড়ে গেছে মমতাজের মাথা গোঁজার ঠাঁই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জলঢাকা উপজেলা প্রশাসন এবং রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলাম পলাশের সহযোগিতায় একটি নতুন ঘর পেয়েছেন দিনমজুর মমতাজ আলী।

মমতাজ আলী পরিবার নিয়ে থাকেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে। রোববার (০৯ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মমতাজ আলী তার স্ত্রী আসমা বেগমসহ নতুন ঘর গোছানোর কাজ করছেন। মমতাজ আলীর ঘরটি টিন, কাঠ আর ইট-পাথরের খুঁটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

মমতাজ আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সারাজীবন দিনমজুরের কাজ করছি। অনেক কষ্ট করে দিন পার হয়ছে। দুই বেটিকে (মেয়েকে) বিয়া দিছি। আরও একটা বেটি আছে। ছেলেটা হাফেজিয়া মাদরাসাত পড়ে। এখন মোর বয়স হইছে। আর শরীর কুলায় না। খাবার জোগাড় করাই মুশকিল। গেল মাসে বাতাস আর ঝড়ি (ঝড়-বৃষ্টি) হয়া মোর ঘরের চালা উড়ে গেছিলো। বউ-ছোয়া ধরি এই ঝড়ির রাইতোত খেলা আকাশের নিচোত দিনরাত গেইছে হামার।

তিনি বলেন, তোমরা ছবি তুলি নিয়া যাবার পর ইউএনও স্যার হামাক ঘরের জন্য দুই বাইন টিন আর ছয় হাজার টাকা দিছে। এরপর রমপুরের (রংপুর) একটা পুলিশের বড় স্যারের লোকজন আসি কাঠ, পিলার, টিন কিনি দুই দিনে পুরা একটা নতুন ঘর বানে দিছে।

মমতাজ আলীর স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, আল্লাহ তোমার সবারে ভালো করুক। এই ঝড়-বৃষ্টির রাইতোত বেটা বেটিক ধরি থাকা কি যে কষ্ট। পলিথিন গাত দিয়া ছিনো কয়দিন। এখন নউতন ঘর হইছে। হামা সবায় খুব খুশি।

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মাহাবুব হাসান জানান, ঢাকা পোস্টে সংবাদ দেখে  দিনমজুর মমতাজ আলীর বিষয়ে অবগত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তাকে দুই বান টিন আর ঘর নির্মাণের জন্য নগদ ছয় হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম পলাশ বলেন, ঢাকা পোস্টে সংবাদটি দেখার পর আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইদের মাধ্যমে মমতাজ আলীর খোঁজ নিই। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি মমতাজ আলী তার পরিবার নিয়ে ভাঙা ঘরে ঝড়-বৃষ্টিতে খুবই দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এরপর মমতাজ আলীর ঘর নির্মাণের জন্য ইট-পাথরের খুঁটি, কাঠ, টিনের ব্যবস্থা করে সম্পূর্ণ নতুন একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নিরাপদে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন।

তিনি আরও জানান, সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ। আমরা চাই আগামীতেও ঢাকা পোস্টে এ ধরনের মানবিক সংবাদ বেশি বেশি উঠে আসবে এবং সমাজের সামর্থ্যবানরা তাদের পাশে দাঁড়াবে। 

মাহমুদ আল হাসান রাফিন/আরএআর

Link copied