বিশ্বের অনেক দেশে রমজান উপলক্ষ্য খাদ্যপণ্যের মূল্য কমানো হয়। ব্যবসায়ীরা লভ্যাংশ ছাড় দিয়ে রোজায় কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করেন। অথচ বাংলাদেশের চিত্র উল্টো। কুষ্টিয়ায় প্রথম রোজার দিনে প্রায় সব ধরনের ফলের দামে বেড়েছে। রাতারাতি প্রতি কেজি আঙুরের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
এছাড়াও আপেল, কমলা, মাল্টা, তরমুজ ও কলাসহ প্রায় সব প্রকার ফলের দামই বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এসব পণ্য কিনতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ কুলিয়ে উঠছে না।
রোববার (২ মার্চ) কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হঠাৎ করে দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ঠেকাতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তারা।
কুষ্টিয়া পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল যে আঙুর ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আজ সেই আঙুর ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি, কমলা প্রকারভেদে ২৬০, ৩০০ ও ৩৫০ টাকা কেজি। মাল্টা ৩২০ টাকা কেজি, নাসপাতি ৩২০ টাকা কেজি, তরমুজ ৬০ টাকা কেজি।
বিজ্ঞাপন
প্রতি বছরের মতো এবারও অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সরবরাহ ঠিক থাকলেও লেবু, বেগুন, শশার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোজায় এগুলোর চাহিদা বাড়ে। এজন্য কারণ ছাড়াই এক সপ্তাহ আগের ৪০ টাকা কেজির বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। একই সময় শসা ও লেবুর দাম বেড়েছে। ৩০ টাকা কেজির হাইব্রিড শশা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, বিক্রি ৪০ টাকা কেজির দেশি শশা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। লেবু প্রকারভেদে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি হালিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পরিকল্পিতভাবে এসব জিনিসের দাম বাড়ানো হয়েছে। রোজায় হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
বেসরকারি চাকরিজীবী মশিউর রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় রোজা উপলক্ষ্যে দাম কমানো হয়। অথচ বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে রোজার সময় দাম বৃদ্ধি করা হয়। রোজায় আমাদের দেশে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে, কিন্তু বিশ্বের বহু দেশে কমে। অধিক লাভের আশায় তারা এমন কারসাজি করে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, লেবু, শসা, তরমুজসহ সব ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। যারা অকারণেই দাম বৃদ্ধি করছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি। রমজান এলেই দাম বেড়ে যায়। এগুলো কি কখনো বন্ধ হবে না।

কলেজ শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, আমরা ছাত্ররা মিলে মেসে থাকি। সবাই রোজা করি, এজন্য বাজার করতে এসেছি। বাজারে এসে দেখি গত বছরের মতো অবস্থা। এবারও জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়েছে। অকারণে শসা, বেগুন, লেবু, আঙুর, আপেল, কমলা, মাল্টা, তরমুজ, কলাসহ প্রায় সব প্রকার ফলের দামই বেড়েছে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা কি কখনো ভালো হবে না, যারা বাজার তদারকির দায়িত্ব আছে তারা কি যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে না, নাকি এসব সিন্ডিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও জড়িত? অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে রোজায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ে অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ দেখতে পাওয়া যায় না। মানুষ অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। অথচ সরকারের প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। এটা খুবই দুঃখজনক।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা অকারণে নিজেদের মন মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়াচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা এদিকে নজর দেন না। মনিটরিং না করার কারণে আসাধু ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যান। সরকারের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের নজরদারি বাড়ানো ও আসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
আরও পড়ুন
ব্যবসায়ীরা বলেন, চাহিদার তুলনায় আমদানি কম। যে সকল জিনিসপত্রের আমদানি কম ও চাহিদা বেশি, সেসব জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। রোজায় লেবু, শসা বেগুন ও ফলের দাম বেড়েছে। রোজায় বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। চাহিদা অনেক বেশি হওয়ার কারণে এসব জিনিসের দাম চড়া।
খুচরা ফল ও সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, কয়েকদিন ধরে লেবু, শসা, বেগুন ও সব ধরনের ফলের পাইকারি দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। যে কারণে বেশি দাম দিয়ে কিনে এনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি আঙুরের পাইকারি দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। খুচরা ব্যাবসায়ীদের পক্ষে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক মাসুম আলী বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করি। কোথাও কেউ যদি সিন্ডিকেট বা অতি মুনাফা করতে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাজারে সরবারাহ ও চাহিদার উপরে দাম বাড়ে এবং কমে। আমরা আমাদের বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। দোষী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজু আহমেদ/আরএআর
