কোম্পানির ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রাণ কোম্পানির কারখানার ক্যান্টিনের খাবার খাওয়ার পর অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বরইচারা এলাকায় অবস্থিত প্রাণ আরএফএলের বঙ্গ মিলার্স কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। ওই কারখানায় বিস্কুট, কেকসহ নানা ধরনের খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করা হয়।
আক্রান্ত শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিনের মতো তারা রাতের শিফটে কাজ করছিলেন। রাত ৯টার দিকে কারখানার ক্যান্টিনে রাতের খাবার খাওয়ার পর ভোররাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ কয়েকজন নারী শ্রমিক পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানার বিভিন্ন ফ্লোরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে আতঙ্কিত হয়ে আরও অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার পর থেকেই একাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ বোধ করতে থাকেন।
কোম্পানির নারী শ্রমিক ও উপজেলা সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিমা খাতুন (২২) জানান, বৃহস্পতিবার রাতে খাবার খাওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। গভীর রাতে তার পেটব্যথা ও বমি শুরু হয়। প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ায় রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাটোরের লালপুর উপজেলার সালামপুর গ্রামের লিপি খাতুন জানান, তার মতো অনেকেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনিও বৃহস্পতিবার রাতে ক্যান্টিনে খাবার খেয়ে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও মাথাব্যথা অনুভব করেন। খুব অসুস্থ ও খারাপ লাগায় ভোর পাঁচটার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কী কারণে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ ও অন্তঃবিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। আক্রান্তরা পাতলা পায়খানা, বমি ও শরীর অবসাদের মতো ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে এখন পর্যন্ত খুব গুরুতর কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।
কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে কুলসুম জানান, সবাই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। রোগের লক্ষণ দেখে মনে হয়েছে, পানিবাহিত সংক্রমণ বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে তারা আক্রান্ত হয়েছেন। সঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে তারা দ্রুত সুস্থতা ফিরে পাবেন।
এ বিষয়ে প্রাণ কোম্পানির অ্যাডমিন শফিউল ইসলাম জানান, রাতের খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর হঠাৎ করে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. উম্মে কুলসুম বলেন, ভোর থেকে প্রাণ কোম্পানির বেশ কয়েকজন নারী শ্রমিক পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফুড পয়জনিং থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে ১৬ জন নারী শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি আছেন, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।
রাকিব হাসনাত/এআরবি