পাঁচ দিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখলেন প্রধান শিক্ষক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টানা পাঁচ দিন ধরে বন্ধ থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতেররশি গ্রামে অবস্থিত সাড়ে সতেররশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) পাঁচ দিন বন্ধ ছিল।
১৯৭২ সালে সদরপুরের সতেররশি এলাকায় ৩৮ শতাংশ জমির ওপর এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৪৮ জন এবং প্রধান শিক্ষকসহ মোট শিক্ষক রয়েছেন সাত জন।
অভিভাবকদের কাছ থেকে ওই বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকার খবর শুনে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সাড়ে সাত রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ কোনো শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাননি। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ তালা দেওয়া দেখতে পান তিনি। দেখা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণ নীরব ও শিক্ষার্থীশূন্য। গত কয়েক দিন পাঠদান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে বলে তার কাছে প্রতীয়মান হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার(১১ জানুয়ারি) থেকে ওই বিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের না পেয়ে পাঠ নেওয়া ছাড়াই বাড়িতে ফিরে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জানুয়ারি শনিবার থেকে ওই স্কুল-সংলগ্ন আটরশির বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পবিত্র ওরস অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ ওরস গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শেষ হয়েছে। ওরস শেষ হওয়ার পরের দুই দিন বুধ ও বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকায় কোনো ক্লাস করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই গত পাঁচ দিন ধরে স্কুলটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে করে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে, যা তাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মাদ শহীদুর রহমান দাবি করে বলেন, পার্শ্ববর্তী বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত ওরস উপলক্ষে বিদ্যালয়টি পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়নি। ওই কয়েক দিন শিক্ষার্থীরা আসেনি বলে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ওরসকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় হয়, অনেক বেশি যানবাহন চলাচল করে। এসব নিয়ে শিক্ষার্থীরা শঙ্কার মধ্যে থাকে বলে প্রতিবছর এ বার্ষিক ওরসের কারণে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ও আসার পথে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ কোনো সহকারী শিক্ষককে পাননি এবং স্কুল তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ওরসের কারণে সহকারী শিক্ষকরা যার যার বাড়ি চলে গেছেন। তারা সকলে আগামী রোববার থেকে স্কুল করবেন। তার না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি তখন নামাজের উদ্দেশ্যে স্কুলের বাইরে ছিলেন।
সদরপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, ওই বিদ্যালয়ে ১৪৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়ে আমরা কাউকে অনুমতি দিইনি। বিষয়টি জানার পর আমি প্রধান শিক্ষককে ডেকে এনেছি। কেন স্কুল বন্ধ ছিল, সেই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
জহির হোসেন/এমএএস