গণভোট জনগণের সিদ্ধান্ত, কোনো দলের নয় : আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের ম্যান্ডেট নয় এটি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তের প্রতিফলন। দেশের মানুষ একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায় বলেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, এবারের নির্বাচন দেশের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয় সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, হয়রানিমূলক মামলা ও দুর্নীতির সংস্কৃতি আর ফিরে না আসে।
আইন-বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন গঠন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে পরিবর্তনসহ গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বড় সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা জনগণের মতামত ছাড়া সম্ভব নয়। সে কারণেই গণভোটের আয়োজন।
গণভোটের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, বিরোধী দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন কমিশন গঠন, সংসদে বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদ নিশ্চিত, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব, নারী আসন বৃদ্ধি এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকার বিধান এসব সংস্কারের প্রস্তাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
“যারা বৈষম্য, দুর্নীতি ও একচ্ছত্র ক্ষমতার অবসান চান, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন”, বলেন ড. আসিফ নজরুল।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল মোমিন/এসএমডব্লিউ