চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, সেই ইউএনওকে বদলি

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বদলির বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
প্রজ্ঞাপনে মোট আটজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের নিম্ন বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে তাদের নামের পাশে বর্ণিত উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হলো।
বদলির বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি যেহেতু সরকারি কর্মচারী সে হিসেবে সরকার আমাকে যেখানে বদলি করবে আমাকে সেখানেই যোগদান করতে হবে।
নির্দিষ্ট কোনো কারণে বদলি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। তবে এটুকু বলতে পারি যেহেতু সামনে নির্বাচন সে হিসেবে হয়তো আমাকে বদলি করা হয়েছে। আমি নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তৈরি হচ্ছি। আশা করি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকালকে আমার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবো।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। এ সময় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করছিলেন পারভেজ নামে এক ব্যক্তি। তখন পারভেজ নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর ক্ষিপ্ত হন সাইদুর রহমান। এ সময় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।
ওই ঘটনার ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। খন্ডিত ওই ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, ‘কী করছেন এটা বলেন না আমাকে। আপনি ম্যাজিস্ট্রেট, আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আপনি ম্যাজিস্ট্রেট, আমি চেয়ারম্যান, এটা আপনি জানেন তো, এটা আমাকে বলতে সমস্যা কোথায়? মোবাইল কোর্ট তো হচ্ছে, স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। ইউএনও সাহেব আমাকে বলেন, আপনি আছেন ঠিক আছে, আমার ইউনিয়ন এটা, আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে বলতে হবে।’
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চান চেয়ারম্যানের অনুমতি নেওয়ার বিষয়টা কোন আইনে আছে? তখন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, এটা চেয়ারম্যানের আইনে আছে।
এ ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
এরপর গতকাল (২০ জানুয়ারি) মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে, কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করে। মাসুদুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। পোস্টে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসন এবং রাজনীতির এমন অহি-নকূল সম্পর্ক আমরা চাই না। আমলাতন্ত্র আর রাজনৈতিক ক্ষমতার গরম আমরা দেখতে চাই না,আমরা আমলা ও রাজনৈতিক চর্চাকারীদের সম্মানের চোখে দেখতে চাই। আপনি ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিন।
দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি লিখেন, এই অফিসারকে যদি চাকরির নিয়মিত বদলির বাইরে অরাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে শাস্তিমূলক বদলি ও চরিত্রহনন করা হয়ে থাকে তাহলে, এই কাজের সাথে জড়িত উপদেষ্টা, রাজনীতিবীদ,সচিব-আমলাসহ সকলের প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম। সিদ্ধান্ত বদল করার দাবি জানিয়ে রাখলাম।
চয়ন দেবনাথ মুন্না/আরএআর