ভোট দিয়ে চলে এলে চলবে না, কেন্দ্রেই থাকতে হবে : তারেক রহমান

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটের হিসাব কড়ায়–গন্ডায় বুঝে বাড়ি ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের দ্বীপ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদ পড়ে নিজ নিজ এলাকার ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। সেখানে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ভোট দিয়ে চলে এলে চলবে না, ভোট দিয়ে কেন্দ্রেই থাকতে হবে— যাতে নিজের দেওয়া ভোটের হিসাব কড়ায়–গণ্ডায় বুঝে নেওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫–১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। যারা এসব কাজ করেছে, তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু এখন আবার একটি গোষ্ঠী নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে, যেন নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ভোটের দিন করণীয় সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, মুসলমান ভাইয়েরা তাহাজ্জুদ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ভোরে ফজরের জামাত ভোটকেন্দ্রের সামনে আদায় করবেন। অন্য ধর্মের ভাইবোনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবেন, যেন সকাল থেকেই সবাই ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সঠিকভাবে ভোট দিতে পারেন।
তিনি বলেন, শুধু ভোট দিলেই চলবে না। ভোট দিয়ে ওখানেই থাকতে হবে। আপনারা পারবেন তো?—এ সময় উপস্থিত জনতা সমস্বরে সমর্থন জানান।
সমাবেশে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম হাতিয়াবাসীর প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরে বলেন, নদী ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ব্লক বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নতুন জেগে ওঠা চরে ভূমিহীনদের জমির বন্দোবস্ত এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, হাতিয়ার সমস্যাগুলো আগেই লিখে রাখা হয়েছে। তিনি একটি কাগজ দেখিয়ে জানান, ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে নদীভাঙন রোধ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভূমিহীনদের জন্য খাসজমি বন্দোবস্ত এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করলে ধাপে ধাপে এসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে অনেকেই হাতিয়াবাসীর কাছে এসেছেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান করেননি। এবার বিএনপি নির্বাচিত হলে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, হাতিয়ায় বিশুদ্ধ পানি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিখাতে নানা সমস্যা রয়েছে। মাহাবুবুর রহমান শামীম নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে এসব সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে মাসিক সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণে সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন, ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
এছাড়া হাসপাতাল সম্প্রসারণ ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও নোয়াখালী–৬ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের হালিমী, আমিরুল হায়দার সাজ্জাদ, লুৎফুল্লাহিল মজিদ নিশান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সদস্য এ কে এম ফজলুল হক খোকন, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈমসহ হাতিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো মাঠ উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
হাসিব আল আমিন/আরএআর