এক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা, জনকল্যাণমূলক শাসনের অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। একইসঙ্গে স্থানীয় সমস্যা সমাধান, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি নিমাই ঘোষ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি মিজানুর রহমান এবং শেরপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী। এ সময় সুজন বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন, সংগঠক চপল মিয়া এবং সুজন বন্ধুর জেলা শাখার সমন্বয়কারী শামসেদ মুরশিদা সুমা বক্তব্য দেন। এতে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও একজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান চুন্নু এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ উপস্থিত না থাকলেও তার প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু অংশ নেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শেরপুর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা এসব অঙ্গীকার করেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বগুড়া জেলা ও শেরপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দুপুর পৌনে ২টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াত সমর্থিত জোট প্রার্থী দবিবুর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে ইতোমধ্যে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, মানবিক ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যাগুলো পরিকল্পিতভাবে সমাধান করা হবে।
বিএনপি প্রার্থীর প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করা হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর ও ধুনট উপজেলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান বলেন, শেরপুর শহরে ফ্লাইওভার নির্মাণ, গ্যাস সুবিধা চালু এবং বাঙালি ও করতোয়া নদীর ওপর একাধিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাস বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। নির্বাচিত হলে সংসদে জনগণের দাবি তুলে ধরা এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটাররা প্রত্যেক প্রার্থীকে তিনটি করে প্রশ্ন করেন এবং প্রার্থীরা সেগুলোর উত্তর দেন। শেষে উপস্থিত ভোটাররা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আব্দুল মোমিন/এএমকে