১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে : মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হবে। ১৮ কোটি মানুষের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্নীতি, লুটপাট, গুণ্ডামি এবং সন্ত্রাস বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে চিরতরে বিদায় নেবে ইনশাল্লাহ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়ার স্বাধীনতা চত্বরে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় তিনি মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিপুল ব্যবধানে খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদে প্রেরণ করবেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক বাদ-বদলের সময়ে আমরা এগারো ভাইয়ের মতো এগারোটি দল হাতে হাত রেখেছি, ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। কোনো ব্যক্তি, কোনো গোষ্ঠী, কোনো জোটের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়। বরং বাংলাদেশের নিপীড়িত, অধিকার বঞ্চিত ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
মামুনুল হক বলেন, আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো দিনের সেই ভূত সওয়ার হওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুরোনো দিনে একদিকে ছিল সন্ত্রাস এবং গুণ্ডামির ভূত আর একদিকে ছিল লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ভূত। এভাবেই দেশের মানুষের সব সম্পদ লুটেপুটে খাওয়ার মহা আয়োজন।
তিনি বলেন, শ্রমিক-কৃষক-দিনমজুর, শিল্প উদ্যোক্তা ও প্রবাসীসহ সকলের সম্মিলিত তিল তিল করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো সম্পদ একত্র হয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল হয়, বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার গুণগত কোনো পরিবর্তন নেই। কারণ ৫ ভাই মিলে আমরা যা কামাই, হঠাৎ রাতের অন্ধকারে পাঁচ মিনিটে একভাই ছোঁ মেরে নিয়ে চুরি করে সব সাবাড় করে দেয়। ৫ ভাই যতই কামাই করেন, একজন যখন সব চুরি করে নেয়, সেই সংসারে কোনোদিন সচ্ছলতা আসতে পারে না। তাই আজ বাংলাদেশে একই অবস্থা হয়েছে।
মামুনুল হক বলেন, ৫৪ বছরে বাংলাদেশে রাজনীতির বন্দোবস্ত হলেও কৃষক, শ্রমিক, মজদুর, মেহনতি মানুষ, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, প্রবাসী সকলে মিলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ চেষ্টা করি। আর দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় গিয়ে বছরে বছরে কোটি কোটি টাকা, লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে। এবারের বাংলাদেশের মানুষ আজ হাতে হাত রেখেছে, পুরোনো দিনের দুর্নীতিবাজ, লুটেরা কোনো গোষ্ঠীকে তারা ক্ষমতার মসনদে দেখতে চাই না। তাই আমরা ১১টি রাজনৈতিক দল হাতে হাত রেখেছি, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে গণভোটে 'হ্যা' যেমন জয়যুক্ত করা হবে। প্রতিটি আসন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে ইনশাল্লাহ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল কাইউম জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামীর খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, ডাকসুর নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা মুখতার হোসাইন, উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডক্টর একরাম উদ্দিন সুমন, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দীন, হিন্দু কমিটির উপজেলা সেক্রেটারি দেব প্রসাদ মন্ডল, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি ডা. নিত্যরঞ্জন রায়, খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মাওলানা হাবিবুর রহমান ও মাওলানা আব্দুর রশিদ বিশ্বাস প্রমুখ।
মোহাম্মদ মিলন/এসএইচএ