নির্বাচনী প্রচারকালে স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ

নোয়াখালী–২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী) সংসদীয় আসনে গণসংযোগ চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত নয়টার দিকে সেনবাগ বাজারে এ অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের কাবিলপুর দিলদার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানের গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তরা তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নেতাকর্মীরা সেনবাগ বাজারে এসে বিক্ষোভ মিছিল করে।
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, আজ দিলদার বাজারে নির্বাচনী প্রচারকালে আমার গাড়িতে গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। আমি নিজে আল্লাহর মেহেরবানীতে নিরাপদ আছি। তবে এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং আশা করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনি দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমানকে টার্গেট করে আজ একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী কাপুরুষোচিত গুলি চালিয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন ও গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ যখন দিশেহারা, তখনই তারা গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। কিন্তু তারা যেন মনে রাখে—বুলেট দিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করা যায় না, দমন করে রাখা যায় না গণমানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষা।
এ বিষয়ে সেনবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার ঢাকা পোস্টকে বলেন, গুলির খবর পেয়ে পুলিশের তিনটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে। আমি নিজেও গিয়েছি। কেউ বলছেন গুলি আবার কেউ বলছেন ইট নিক্ষেপ হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী–২ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ০৮১ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১১টি এবং ভোটকক্ষ ৭০০টি, যার মধ্যে ২২টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে।
এ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবদিন ফারুক, ১১ দলীয় জোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খলিলুর রহমান এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান।
হাসিব আল আমিন/এমএএস