ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াতের দুই কর্মীর দোকানে অগ্নিসংযোগ

ঝালকাঠি-২ আসনের সদর উপজেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর দুই কর্মীর দুইটি দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী হানিফ মোল্লা ও হাবিব মোল্লা জামায়াতের কর্মী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা বেশাইনখান গ্রামের বাজার এলাকায় অবস্থিত জামায়াতে ইসলামী সক্রিয় দুই কর্মীর দুইটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দোকানের ভেতরে থাকা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সকালে স্থানীয়রা আগুনে পোড়া দোকান দেখতে পেয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানান।
ঘটনার পর জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি-২ আসনের জামায়াত ও জোট প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আগেও আমাদের কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এসব করে জনগণের রায় পরিবর্তন করা যাবে না। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর আগেই ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল- কেন তারা এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করছে, তা নিয়েই মূলত এই চাপ। জামায়াতের পক্ষে সৃষ্টি হওয়া গণজোয়ার দেখে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, যার উদ্দেশ্য ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া। বিশেষ করে নারী ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে, কারণ তারাই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বেশি সমর্থন জানাচ্ছেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দোকানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শাহীন আলম/আরকে