৫টিতে জামায়াত, ৬টিতে বিএনপি এগিয়ে; ঢাকায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আরও ১৩টি সংসদীয় আসনের জরিপ প্রকাশ করেছে গবেষণা ও জরিপ প্রতিষ্ঠান ‘সোচ্চার’। সংস্থাটির প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এসব আসনের মধ্যে ৫টিতে জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে রয়েছে, ৬টিতে এগিয়ে বিএনপি। বাকি ২টি আসনে এগিয়ে আছে এনসিপি। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন থাকায় বেশ কয়েকটি আসনে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে এই জরিপ প্রকাশ করা হয়।
সোচ্চারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘রিভিল্ড ভোট’ বা প্রকাশিত মতামতের হিসাব। অর্থাৎ যারা প্রকাশ্যে নিজের পছন্দ জানিয়েছেন, তাদের মতামতের ভিত্তিতেই এই অবস্থান দেখানো হয়েছে। আনডিসাইডেড ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত অনেক আসনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

যেসব আসনে জামায়াত এগিয়ে
জরিপে দেখা গেছে, কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জামায়াত ৩ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনে জামায়াতের ব্যবধান আরও স্পষ্ট– এখানে দলটি ৮ শতাংশ ভোটে এগিয়ে। গাইবান্ধা-২ আসনে জামায়াতের শক্ত অবস্থান উঠে এসেছে, যেখানে তারা ১৮ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে।
ঢাকার ভেতরে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত ৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছে। ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে বিএনপির সঙ্গে কাঁটায় কাঁটায় লড়াইয়ে জামায়াত ২ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে।
বিএনপির এগিয়ে থাকা আসন
চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি ৭ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। ময়মনসিংহ-৯ এবং ঢাকা-১ আসনে বিএনপি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে বলে জরিপে বলা হয়েছে।
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে, যেখানে বিএনপি প্রার্থী ২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটে এগিয়ে।
এছাড়াও ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, এখানে বিএনপি ৩ শতাংশ ভোটে এগিয়ে। সিলেট-৬ আসনে ব্যবধান খুবই কম– জামায়াতের চেয়ে বিএনপি মাত্র ০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে।
এনসিপির চমক ঢাকায়
ঢাকার দুটি আসনে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে জরিপ। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি ১৬ শতাংশ ভোটে এবং ঢাকা-১১ আসনে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে। এই দুই আসনে মূলত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলছে।
সোচ্চার জানিয়েছে, এই জরিপ কোনো চূড়ান্ত পূর্বাভাস নয়। বড় একটি অংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন। ফলে শেষ সময়ের প্রচারণা, রাজনৈতিক সমঝোতা ও ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই ঠিক করবে কোন আসনে কারা জয়ী হবে। জরিপের এই চিত্র আপাতত ইঙ্গিত দিচ্ছে– অনেক আসনেই ফলাফল ঝুলে আছে শেষ মুহূর্তের ওপর।
টিআই/বিআরইউ