‘কায় জিতে জিতুক, দ্যাশটা যেন ভালো থাকে’

‘বাবারে ভোটের অবস্থা দেখি তো ভালোয় নাগোছে (লাগছে)। এবার সবার মুকোত হাসি। মুই আল্লাহর রহমতে ভালোয় ভোট দিচু (দিয়েছি)। দুইটা কাগজ (ব্যালট) দিচে, একটা গোলাপী আর একটা সাদা রঙের। দুইটাতে সিল দিচু (দিয়েছি)। এ্যলা কায় (এখন কে) জিতে জিতুক, হামার দ্যাশটা যেন ভালো থাকে।’
কথাগুলো বলছিলেন মর্জিনা বেগম। সত্তরোর্ধ্ব বয়সী এই নারী রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর-৪ আসনের হারাগাছ সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের ভোটার।
দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই নারী ভোটার।
হারাগাছ সরকারি কলেজ, দেউতি উচ্চ বিদ্যালয়, মাহিগঞ্জ কলেজ, আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে দেখা গেছে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। বিশেষ করে পুরুষের ভোটারের তুলনায় নারীদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দেয়ার অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
নগরীর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র কথা হয় এম এ মজিদ নামে এক ভোটারের সঙ্গে। তিনি বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি। এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে ভোর থেকেই কেন্দ্রে এসেছে। এটা আনন্দ এবং উৎসবের ভোট এইবারের ভোট দেশের সংস্কার এবং পরিবর্তনের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আরেক ভোটার মতিউর রহমান বলেন, আমরা সাদাসিধা মানুষ, রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝি না। আমরা চাই দেশ ভালো থাকুক জিনিসপত্রের দাম আমাদের নাগালের মধ্যে থাকুক। মারামারি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস এসব যেন না থাকে। সব দল যেন মিলেমিশে দেশের উন্নয়ন করে, রংপুরের উন্নয়ন করে।
প্রথমবারের মতো গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত এ আর এম ফাহিম মুরশেদ। কলেজপড়ুয়া এই শিক্ষার্থী বলেন, এটা শুধু ভোট নয়, এটা আমার জন্য অনেক দিনের অপেক্ষায় ফসল। মানুষ পরিবর্তন চায়, সংস্কার চায়। আমরা নতুনরা মনে করি, এই নির্বাচন দেশের পরিবর্তনের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে।
রংপুর-৩ আসনে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. মনছুর রহমান বলেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুরুষের চেয়ে নারীর উপস্থিতি বেশি। এই কেন্দ্রে ৯টি কক্ষে ৪ হাজার ৩৯৮ জন ভোটার দিবেন বলে জানান তিনি।
রংপুর-৪ আসনে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এস এম শাহ্ নেওয়াজ জানান, তার কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৮০ জন। সকাল ১০টা পর্যন্ত এখানে ৪৪০ জন ভোট দিয়েছেন।
একই আসনের দেউতি উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ফজলে রাব্বী অফিসার জানান, ভোটকেন্দ্রে মোট ভোট সংখ্যা ৩ হাজার ৯৬১ জন। বেলা ১২ টা পর্যন্ত সেখানে ভোট পড়েছে প্রায় দেড় হাজার। এই কেন্দ্রেও পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকালে উপস্থিতির সংখ্যা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভোটার উপস্থিতি। জেলার সংসদীয় ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। এখানে ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আট উপজেলা, তিন পৌরসভা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকা মিলে ৮৭৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরকে