জয়পুরহাটে সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশ

উৎসবমুখর পরিবেশে জয়পুরহাটের দুটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভোটারদের সরব উপস্থিতির কারণে ভোটের হারে বেশ গতি লক্ষ্য করা গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আল-মামুন মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার দুটি আসনে গড়ে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরমধ্যে জয়পুরহাট-১ আসনে ৩৭ শতাংশ ও জয়পুরহাট-২ আসনে ভোট পড়েছে ৪০ শতাংশ।
তিনি বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ভালো হয়েছে। সকাল থেকে ভোটাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে ভিড় আরও বাড়ে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের কেন্দ্রগুলোর ন্যায় গ্রামাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতেও ভোট পড়ার হার কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
ভোটার আব্দুল ওহাব বলেন, আমি ভোট দিয়েছি। কোনো ঝামেলা নেই। সুবিধামতো ভোট দিয়েছি।
তরুণ ভোটার মোছা. সাকিলা বলেন, ভোটকেন্দ্রে পরিবেশ খুবই ভালো। সিরিয়াল নম্বর নিয়ে লাইন ধরে গিয়ে ভোট দিয়েছি। কেন্দ্রে নারী ভোটারই বেশি।
এবারের নির্বাচনে জয়পুরহাটের দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে রয়েছেন ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফজলুর রহমান সাঈদ (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) তৌফিকা দেওয়ান (কাঁচি প্রতীক), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের ওয়াজেদ পারভেজ (মই) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার ওরফে শিখা (ঘোড়া)।
অন্যদিকে, জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসনে ৩ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। এখানে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আব্দুল বারী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর এস এম রাশেদুল আলম (দাঁড়িপাল্লা) ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থী এস এ জাহিদ (ঈগল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৬ হাজার ১৬০ জন, নারী ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৬৭৬ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১০ জন এবং প্রবাসী ও পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৭ হাজার ৪৮৬ জন।
চম্পক কুমার/আরকে