নাতির কোলে চড়ে ভোট দিলেন শতবর্ষী আছিমন বেওয়া

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, চোখে-মুখে সময়ের ছাপ। তবুও নাগরিক অধিকার প্রয়োগের অদম্য ইচ্ছা দমাতে পারেনি শতবর্ষী আছিমন বেওয়াকে। হাঁটতে না পারলেও নাতির কোলে চড়ে কেন্দ্রে হাজির হয়ে নিজের ভোটটি নিজেই দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা মডেল কলেজ কেন্দ্রে এমন আবেগঘন দৃশ্যের দেখা মেলে। নাতি এরশাদুল হক তার নানি আছিমন বেওয়াকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
ভোট দেওয়ার পর আছিমন বেওয়া বলেন, ‘অনেক বয়স হইছে বাবা, চলতে পারি না। আজ নাতির কোলে চড়ে আসছি ভোট দিতে। খুব ভালো লাগছে। আগামীতে আর ভোট দিতে পারব কি না, আল্লাহই জানে।’
নাতি এরশাদুল হক বলেন, ‘নানির বয়স অনেক বেশি, ঠিক মতো হাঁটতে পারেন না। তবুও ভোট দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা দেখে তাকে কোলে করে নিয়ে এসেছি। ভোট দিতে পেরে নানির মুখে যে হাসি ফুটেছে, সেটাই আমাদের বড় পাওয়া।’
একই দৃশ্য দেখা গেছে ফুলবাড়ি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রেও। দুই পায়ে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে এসেছেন মৌসুমি আক্তার। তিনি বলেন, ‘পায়ে সমস্যার কারণে অনেক দিন ভোট দিই না। কিন্তু আজ ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। সবাই ভোট দিতে যাচ্ছে দেখে আমিও চলে এলাম।’
এদিকে, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের ৭০৬টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৭ জন প্রার্থী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, চারটি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।
নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং বিকেলের মধ্যেই সফলভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমএআর/