‘ভোট দেওয়া হয়ে গেছে’—কেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন নুরজাহান

দুপুর গড়িয়ে ঠিক ১২টা। ধীরে ধীরে কেন্দ্রের দিকে এগোলেন ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম। গন্তব্য—পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। বহু নির্বাচনের সাক্ষী এই নারী ভোটার। এবারও ভোট দিতে এসেছিলেন স্বাভাবিক বিশ্বাস নিয়েই। কিন্তু বুথে ঢুকে যে কথা শুনলেন, তা যেন মুহূর্তেই ভেঙে দিল সেই বিশ্বাস।
পোলিং অফিসার তাকে জানিয়ে দেন, ‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।’
বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।’
কেন্দ্রের ভেতর-বাইরে তখন ফিসফাস, উৎকণ্ঠা, ক্ষোভ। উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে দেখছি, কিছু ভোটার আসার আগেই নাকি তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টা খুবই উদ্বেগজনক।’
আরেক ভোটার রহিমা খাতুনের ভাষ্য, ‘ভোট দিতে আইসা যদি শুনি ভোট হয়ে গেছে, তাহলে হামরা কই যামো? এটা তো হামার অধিকার।’
কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন বলেন, ‘পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
এদিকে সচেতন ভোটারদের প্রশ্ন—যদি প্রকৃত ভোটার বুথে এসে জানতে পারেন তার ভোট আগেই ‘দেওয়া হয়ে গেছে’, তাহলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়ায়?
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/এসএইচএ