পাবনায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াতের

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, মামলা, নির্যাতন, হত্যা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক দলের অফিস ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঈশ্বরদীর ভেলোপাড়ায় রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন, জেলা আমির ও পাবনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।
তিনি বলেন, বিএনপির ক্ষমতাসীনদের দ্বারা আমাদের মতোই মজলুম ছিল, ৫ আগস্টের পর সেই মজলুম জালিমরুপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা একরাতে হাট-বাজার-ঘাট, টেম্পু-বাস-ট্রাকস্ট্যান্ড, অফিস-আদালত দখল করে চাঁদাবাজী-টেন্ডারবাজীসহ দেশের সব কিছু দখল, হত্যা, নির্যাতন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণে পুরনো বন্দোবস্তে ফিরে গেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার কেরে নেওয়ার পাঁয়তারা করে। তারা নির্বাচনের পূর্বেই ভোটারদের হুমকি-ধমকি, মারধর করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এছাড়া দেশ ও জাতির শত্রু ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থানের খুনি ও সন্ত্রাসীদের ফিরে এনে আশ্রয় দিয়ে মাঠে নামিয়ে এক ভয়ংকর পরিবেশ তৈরি করে।
নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বহু আসনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তাদের দলীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সারাদেশে এক নৈরাজ্যকর এবং আইয়ামে জাহেলিয়াতের জুলুম সৃষ্টি করে। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা জামায়াত ও জোটের এমপি প্রার্থীর নেতাকর্মী ও ভোটারদের ওপর বর্বরোচিত ধর্ষণ, নির্যাতন, হামলা, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, চাঁদা দাবি করে তারা পূর্বের জালেমের রূপ ধারণ করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে এমন আচরন করবে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
পাবনার বিভিন্নস্থানে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈশ্বরদীতে নির্বাচনের পূর্বেই আমার ওপর গুলি চালানো হয়। মহিলা কর্মীদের ওপর আক্রমণ, প্রচার কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের বোরকা ধরে টানাটানি করে বিএনপির লোকজন। পাবনা সদরে নির্বাচনের ৫ দিন পূর্বে হেমায়েতপুর ৯ নং ওয়ার্ড এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জোতগড়ি জালালপুরের জামায়াত নেতা আবু সাইদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক সচিবের বাড়িসহ ইয়াসিন আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
এছাড়া পাবনা পৌরসভা ১৪নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সবুজ এর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আতাইকুলায় মহিলা জামায়াতের কর্মী হাফসা খাতুন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত রুয়া সদস্যা জয়ীতা খাতুনের বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সুজানগরে বিভিন্ন ইউনিয়নে আক্রমণ করে ৬ জন কর্মীকে গুরুতর আহত করে ও অসংখ্য বাড়িঘর ভাঙচুর করে। দেশের জনগণ দ্রুত এই অবস্থার অবসান চায় বলে বক্তব্যে যোগ করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জহুরুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, জেলা তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি গোলাম রব্বানী খান, যুবায়ের, আটঘাটরিয়া উপজেলা সাবেক আমির আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা সেক্রেটারি সাঈদুল ইসলাম প্রমুখ।
রাকিব হাসনাত/আরকে